বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঘর নেই, শ্রেণি কক্ষ নেই, টেবিল নেই, বেঞ্চ নেই, শিক্ষার্থী নেই, তবুও অস্তিত্বহীন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হয়েছে। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর রাতের আঁধারে বাগবাটি ইউনিয়নের চর নান্দিনা গ্রামে সাইনবোর্ড বসানো, ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
কাগজে-কলমে কলেজটির প্রতিষ্ঠা দেখানো হলেও বাস্তবে এর কোনও অস্তিত্ব ছিল না। কলেজের কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করা হতো, তা স্থানীয়রা এখনও জানতে পারেনি। কাগজে-কলমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা কার্যক্রম চললেও বাস্তবে সব চিত্রই উল্টো। এমপিওভুক্তির নীতিমালা না মেনে কীভাবে এই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির নামের তালিকায় আসলো, এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের চর নান্দিনা গ্রামে রাস্তার ধারে নতুন একটি সাইনবোর্ড দেখানো হয়েছে বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ এইদিকে। সাইনবোর্ডের রাস্তা ধরে ২০০ গজ এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল ৫/৬জন কাঠমিস্ত্রী একটি পুরানো ভিটায় টিনের ঘর উঠানোর জন্য কাজ করছে। একটি সাংবাদিক টিম তাদের এটা কি হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি সরকারি হয়েছে তাই এই ভিটায় ঘর স্থাপন করা হবে, এটা কলেজ হবে।

এর মধ্যেই আব্দুর রহমান নামক এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে বলেন, আমি কাগজ কলমে এই কলেজের কম্পিউটার শিক্ষক ১৬ বছর হলো জড়িয়ে আছি। এবার আমাদের কপাল খুলেছে তাই আমরা কলেজ ঘর তৈরি করছি, এটা কলেজ হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সব জায়গায় টাকা দিয়ে আগে কলেজ এমপিও করেছি এখন ঘর তুলবো। ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করব, এগুলো নিয়ে লেখালেখি করে কি লাভ।
কিছুই নেই অথচ কলেজটি এমপিও হলো কিভাবে সাংবাদিক টিম প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের প্রিন্সিপাল এশারত আলী সবদিক দিয়ে একজন বিখ্যাত মানুষ তার ব্যাগে কাগজপত্র, আর সিল থাকলে তিনি সবকিছু করতে পারেন। তিনি যেকোন আবেদন করলে সবকিছু অলৌকিকভাবে মঞ্জুর হয়ে যায়। যেমন বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ একটি অস্তিত্বহীন একটি পুরানো মাটির ভিটায় কলেজ এমপিও করলে তাহলে বোঝেন অধ্যক্ষ এশারত আলীর কি ক্ষমতা? প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কোন কিছু না থাকার পরও এই বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি এমপিও হলো কিভাবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, বেশ কয়েক বছর আগে ভাড়া ঘরে ওই প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড দেখা গিয়েছিল। গত কয়েক বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনও কার্যক্রম দেখতে পায়নি তারা। কিভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তি তালিকায় গেলো, সেটিই বড় প্রশ্ন। স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলায় এমপিওভুক্ত হওয়ার যোগ্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলো না করে নিজস্ব জায়গা ও অবকাঠামো না থাকলেও ‘নামসর্বস্ব বাগবাটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ’ এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছে স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে বিষয়ে ঢাকার কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিদর্শক প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান বলেন, কোন মাটির ভিটা বা খালি জায়গার উপর প্রতিষ্ঠান কাগজ কলমে এমপিও হতে পারে না। এধরনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল হয়ে যাবে।
বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ এশারত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ভাই কলেজের জায়গা কাগজপত্র ঠিক আছে বলেই বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি এমপিও হয়েছে। এখন আমরা ঘর নির্মাণ করছি এক মাসের মধ্যে আমরা খালি জায়গায় কলেজ বানিয়ে ফেলবো। তবে এ বিষয়ে লেখালেখি না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, বাগবাটি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এশারত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরি, কলেজে চাকুরি ও এমপিওভুক্তি করে দেয়ার নামে অনেকের কাছ ভাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।