শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ইরানের নৌশক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি: স্বীকার করল পেন্টাগন সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’: সংসদে প্রশ্ন আজহারের ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর

মানিকগঞ্জে তেরশ্রী গণহত্যা দিবস পালিত।। ৪৩জন স্বাধীনতাকামী মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮২৪ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতা লাভের প্রাক্বালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক পুড়িয়ে হত্যা করা ৪৩জন শহীদদের স্মরণে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের ঘিওরে তেরশ্রী গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার ভোরে তেরশ্রীর শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক এস, এম ফেরদৌস, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, ঘিওর উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবীবসহ বিভিন্ন দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার নানা শ্রেনী-পেশার মানুষ।

১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর পাক হানাদার বাহিনী তেরশ্রী এস্টেটের তৎকালীন জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরী, কলেজ অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানসহ ৪৩জন স্বাধীনতাকামী মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে, বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। ওই সময় তারা পুরো গ্রামের ঘরবাড়ী আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় বয়োঃ বৃদ্ধরা জানান, সেই দিন শীতের কাকডাকা ভোরে পুরো গ্রামটি ঘিরে হানাদার বাহিনী এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনীর সহায়তায় ঘুমন্ত গ্রামবাসীর উপর নারকীয় হতাযজ্ঞ শুরু করে। প্রথমে তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমানকে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে। এরপর তেরশ্রী এস্ট্রেটের জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্যদেরও একই কায়দায় হত্যা করে ও পুরো গ্রামে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। হানাদাররা চলে যাওয়ার পর আশপাশের গ্রামের লোকজন এসে মৃত দেহগুলো নিয়ে স্থানীয় শ্মশানে ও কবরস্থানে মাটি চাপা দেয়।

এলাকাবাসীর দাবির মুখে ৪১ বছর পর শহীদদের স্মরণে তেরশ্রী গ্রামে নির্মিত হয় সরকারিভাবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। সেই স্তম্ভে ৩৬জন শহীদের নাম লিপিবদ্ধ হলেও বাকীদের নাম অজানাই রয়ে গেছে। প্রতিবছর এই দিনে এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচী পালন করে। সেই সময়ের ভয়াল স্মৃতি নিয়ে তেরশ্রী গ্রামে এখনও বেঁচে আছে অনেকেই। এখন মানবেতর দিন যাপন করছেন। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে জমিদার পরিবারের সদস্যদের। তারা শহীদদের মর্যাদা পাওয়ার দাবীও করছেন পরিবারগুলো। সে সময়ের কথা মনে করে স্বামী ও শশুর হারানোর যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে থাকা বিধবা নারী এখনো আতকে ওঠেন। সত্তোরর্ধ এই নারী পায়নি কোন সরকারী সহায়তা। মানবেতর জীবন যাপন করছে তার মত অন্যান্য শহীদ পরিবারগুলো। সঠিক ইতিহাসের অনুসন্ধান করে তেরশ্রী গণহত্যাসহ দেশের সকল যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা ও তাদের বিচারের দাবি বীর মুক্তিযোদ্ধা, তরুন প্রজন্ম ও এলাকাবাসীর।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com