বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় পুরাতন জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান আতাউর রহমান ওরফে হারুন ওরফে আরাফাত সহ চার ‘জঙ্গিকে গ্রেফতার এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার পাকুড়তলা বাস স্ট্যান্ডে গোপন বৈঠকের সময় পুলিশের হেড কোয়াটার্সের এলআইসি ও বগুড়া জেলার গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করেন। ডিবি পুলিশের এসআই ফিরোজ সরকার তাদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা করেছেন। অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস এবং তারা কেন সমবেত হয়েছিলেন তা জানতে তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
রোববার দুপুরে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা তার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ এসব তথ্য দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত ‘জঙ্গিরা’ হলো রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বেটুবাড়ি গ্রামের পুরাতন জেএমবির উত্তরাঞ্চলের (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) দাওয়াতি বিভাগের প্রধান (এহসার) আতাউর রহমান ওরফে হারুন ওরফে আরাফাত (৩৪), নওগাঁর পোরশা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বায়তুল মাল প্রধান ও নওগাঁ জেলার দায়িত্বশীল (এহসার) মিজানুর রহমান ওরফে নাহিদ ওরফে মোরছাল (৪২), তার জামাতা গাইবান্ধা সদরের রামচন্দ্রপুর সোনারপাড়ার, গাইবান্ধা জেলার দায়িত্বশীল (এহসার) জহুরুল ইসলাম ওরফে সিদ্দিক (২৭) এবং বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর করমজাপাড়ার জেএমবির বগুড়া জেলার দায়িত্বশীল (গায়েরে এহসার) মিজানুর রহমান (২৪)।
পুলিশ সুপার জানান, আতাউর রহমান ওরফে হারুন ওরফে আরাফাত ২০১৩ সালে জেএমবিতে যোগ দেন। কাউনিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে গত ২০১৬ সালের ১১ জুন ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মিজানুর রহমান ওরফে নাহিদ ওরফে মোরছাল ২০০৪ সালে জেএমবিতে যোগদান করেন। তার জামাতা জহুরুল ইসলাম ওরফে সিদ্দিক ২০১১ সালে জেএমবিতে আসেন। এছাড়া মিজানুর রহমান ২০১৬ সালে জেএমবিতে যোগদানের পর বগুড়া জেলার দায়িত্বলাভ করেন।
শনিবার রাত দেড়টার দিকে পুরাতন জেএমবির জঙ্গিরা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পাকুড়তলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে গোপন বৈঠক করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশের হেড কোয়াটার্সের এলআইসি ও বগুড়া জেলার গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেন। এ সময় ২-৩ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

আটককৃতদের কাছে একটি ওয়ান শ্যূটার গান, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের তিন রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি, একটি চাকু, এক কেজি বিস্ফোরক, ৮টি গ্রেনেড বডি, ১০টি গ্রেনেড তৈরির সার্কিট, ১০০কে ৩০টি রেজিস্ট্যান্স, ১০০কে ১৫টি ক্যাপাসিটর, ১টি তাতাল, ১০টি ভেরো বোর্ড, ৫টি ব্যাটারি, ২০টি চুনি বাল্ব, ১৫টি সুইচ, ১টি সার্কেট মিটার, এক কয়েল রাং, ২টি রঞ্জন, ১৫টি লক কেবল, ১০০০কে ১৫টি ক্যাপাসিটর ও ২ গ্রোস সাইকেলের চাকার বল পাওয়া যায়।
পুলিশ সুপার আরো জানান, পুরাতন জেএমবির গায়েরে এহসার বগুড়ার দায়িত্বশীল নেতা মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় এরা সেখানে সমবেত হয়েছিল। তবে তাদের নাশকতার কোন পরিকল্পনা ছিলনা। এদের রাজনৈতিক কোন পরিচয় নেই। তাদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা হয়েছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস, তাদের সাথে আর কে কে ছিলেন এবং তাদের কী পরিকল্পনা ছিল সে সম্পর্কে জানতে চার জঙ্গীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।