বাংলা হেডলাইনস : আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, কারও ভোগ বিলাসের জন্য এটা ব্যয় হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন আজকে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি, এটা অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি, এটাও অব্যাহত থাকবে। কারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ, জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, কারও ভোগ বিলাসের জন্য এটা ব্যয় হবে না’।
আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি তাঁর দলের নেতাকর্মীদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ বুকে ধারণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন এই আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। এই আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সমগ্র বাংলার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছে। কাজেই আমাদের নীতি আদর্শ হচ্ছে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা। জনগণের জীবন মান উন্নত করা। জনগণকে একটা উন্নত জীবন দেওয়া। যা জাতির পিতার সব সময় স্বপ্ন ছিল। তিনি নিজের দিকে তাকান নাই। নিজে কি পাবেটাবে সে চিন্তা করেননি। তিনি মন্ত্রীত্বের পদ ছেড়ে দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়েছিলেন শুধু দলকে সুসংগঠিত করার জন্য দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগের জন্য তিনি সব সময় প্রস্তুত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন কাজেই তাঁরই (শেখ মুজিব) আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা কর্মীকে সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে জনগণের জন্য আমরা কতটুকু করতে পারলাম এই চিন্তা করতে হবে, জনগণকে কি দিতে পারলাম সেই চিন্তা করতে হবে, জনগণের কল্যাণ কিসে হবে সেই চিন্তা করতে হবে।
তিনি বলেন কেউ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করবেন, বিলাস বহুল জীবন যাপন করবেন আর যে সৎ ভাবে জীবন যাপন করবে সে সাদাসিধা জীবন যাপন করে তাঁর জীবনটাকে নিয়ে কষ্ট পাবে এটা কিন্তু হতে পারে না। অবৈধ ভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঐ বিরিয়ানি পোলাও খওয়ার থেকে, আর কোন ব্রান্ড পড়ার থেকে সাদাসিধা জীবন যাপন করা অনেক অনেক সম্মানের। অন্তত সারাক্ষণ ঐ যে অবৈধ ভাবে চোরা টাকা, চোরা টাকা এটা মনে আসবে না। শান্তিতে ঘুমানোও যাবে। আসলে টাকা বানানো একটা রোগ, এটা একটা অসুস্থতা। কারণ একবার যে বানাতে থাকে তার শুধু টাকা বানাতেই ইচ্ছা করে। কিন্তু ঐ টাকার ফলে ছেলেমেয়ে বিপথে যাবে, ছেলেমেয়ের পড়াশুনা নষ্ট হবে, মাদকাসক্ত হবে সেটা দেখারও সময় নাই। টাকার পিছনে ছুটছে তো ছুটছে। আর নিজের পরিবার ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন কাজেই এই ধরণের একটা সামাজিক অবস্থা আমরা চাই না। আমরা চাই সৎ পথে কামাই করে যে চলবে সে সম্মানের সাথে চলবে। সৎপথে কামাই করে যে থাকবে সে সমাজে সম্মান পাবে। আর চোরা টাকা, দুর্নীতির টাকা, অবৈধ ভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে যতই বিলাসিতা করুক, মানুষ মুখে হয়তো খুব বাহবা দিবে, পিছনে একটা গালি দেবে যে ঐ ব্যাটা দুর্নীতিবাজ, চোর। সেই গালিটা হয়ত শোনা যাবে না, বোঝা যাবে না কিন্তু সে গালিটা খেতে হয়। এই কথাটা মনে রাখতে হবে। জাতির পিতা সারা জীবন সাদাসিধা জীবনযাপন করে গেছেন্। কাজেই তাঁর আদর্শের সৈনিক তাদেরকে সেই ভাবেই চলতে হবে।