বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ : ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দুটি ব্রিজের গার্ডারে ফাটল ও লোহার পাতে মরিচা ধরায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে। এই জরাজীর্ণ ব্রিজ দুটির সামনে গতিসীমা কমানোর সংকেত দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ওই রেলপথে সিরাজগঞ্জ থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত যতগুলো ব্রিজ রয়েছে তার অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। এ দুটি ব্রিজের বয়স ১শ বছর পার হয়েছে। এছাড়া উল্লাপাড়া ও ভাঙ্গুরা উপজেলার রেলপথ অংশটি ঐতিহাসিক চলনবিলের মধ্যে হওয়ায় প্রতি বছর বন্যা মৌসুমে পানির তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ে ধাক্কায় এ ব্রিজ দুটির গার্ডার দুর্বল হয়ে এর কোথাও কোথাও ফাটলেরও সৃষ্টি হয়েছে। এ রেলপথে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ প্রায় ১৪টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন ও ৬টি তেল, কয়লা ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। পাকশী রেলওয়ে বিভাগের (ডিআরএম) আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া ওই ব্রিজ দুটির উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচলের কথা স্বীকার করেন এবং তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলের বন্যার পানির তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে ব্রিজ দুটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শীঘ্রই জরাজীর্ণ ব্রিজ দু’টি সংস্কার করা হবে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে প্রধান প্রকৌশলী (রাজশাহী) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, জরাজীর্ণ ওই ব্রিজ দু’টি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। এ দুটি ব্রিজ সংস্কারে বিপুল টাকা ব্যয় হবে। রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ ব্রিজ দুটির অবস্থার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, উল্লাপাড়ার বঙ্কিরহাট ও মহিষাখোলা কামারপাড়া নামকস্থানে ২৬ ও ২৯ নং ব্রিজ দুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন ধীরগতিতে চলছে ঢাকার সাথে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২০টি ট্রেন। বর্ষার পানি নেমে গিয়ে শুষ্ক মৌসূম শুরু হলেও এখনও এই ব্রিজ দুটি সংস্কার করছে না রেল বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে রেল বিভাগ ওই ব্রিজ দুটির নিচে লোহার এ্যাঙ্গেল, কাঠের স্লিপারের ঠেকনা (সিসি ক্লিক) দিয়ে কোনমতে ঠেকিয়ে রেখেছে। এছাড়া এ দুটি ব্রিজের দু’পাশে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ২০ কিলোমিটার লেখা সতর্ক সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এমনকি ব্রিজ দুটিতে রেল বিভাগ থেকে ৪ জন ওয়েম্যানও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ জরাজীর্ণ ব্রিজ দুটিকে নিয়োগকৃত ওয়েম্যানরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রেন আসা দেখলেই লাল ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে ট্রেনের গতি কমিয়ে চলার সংকেত দেখানো হয়। এ কারণে এ রুটে চলাচলকারী প্রায় ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। তারা সঠিক সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এ ব্রিজ দিয়ে প্রতিটি ট্রেন মাত্র ঘন্টায় ৫ কিলোমিটার বেগে চলাচল করে। এর উপরে গেলেই ব্রিজ দুটি ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে উঠে। এতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকাও রয়েছে।