বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ার শেরপুরে নিখোঁজের দু’দিন পর শহিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক ট্রলি চালকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ উপজেলার সুত্রাপুর এলাকায় ফুলজোড় নদীর ঘাট থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
পুলিশের ধারণা, স্ত্রী পরকীয়া প্রেমের কারণে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী সালমা বেগমকে (২৬) আটক করা হয়েছে। প্রেমিক শাহীন আলম পলাতক রয়েছে।
সন্ধ্যায় এ খবর পাঠানোর সময় নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির ও অন্যরা জানান, শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের সুত্রাপুর আখিরীপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সালমা বেগমের সাথে প্রতিবেশী শাহীন আলমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাহীন আলম আড়াই মাস আগে সালমাকে ভাগিয়ে ঢাকায় নিয়ে যান। একমাস আগে ফেরত দেন। এরপর শহিদুল স্ত্রীকে মেনে নিয়ে সংসার করছিলেন। এরপরও সালমার সাথে শাহীনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক অটুট ছিল। দু’দিন আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সালমা কৌশলে শহিদুলকে ফুলজোড় নদী থেকে পানি আনতে পাঠান। এরপর থেকে শহিদুল নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা নদীর সুত্রাপুর ঘাটে শহিদুলের ব্যবহৃত লুঙ্গি ও গামছা দেখতে পারে। পরে নদীতে খোঁজাখুঁজি করলে বিকালের দিকে তার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও হত্যায় জড়িত সন্দেহে তার স্ত্রী সালমাকে আটক করে।
এদিকে পরকীয়া প্রেমিক শাহীন আলমকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে তার চাচা গত মঙ্গলবার রাতে শেরপুর থানায় অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। শহিদুলের লাশ উদ্ধারের পর থেকে শাহীন নিখোঁজ রয়েছেন।
শেরপুর থানার ওসি আরো জানান, তারা মোটামুটি নিশ্চিত স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের জেরে ট্রলি চালক শহিদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী সালমা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এজাহারে নাম এলে তাকে গ্রেফতার করা হবে। প্রেমিক শাহীন আলমকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।