বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়ার শেরপুরে দুই মাদ্রাসা সুপার ও ১২ ভুয়া দাখিল পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই সুপারকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এছাড়া প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের কাছে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ধনকুন্ডি আয়েশা মওলা বক্স দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আরবী দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।
দন্ডাদেশপ্রাপ্ত সুপাররা হলেন শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের মধ্যভাগ দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও গুয়াগাছি গ্রামের আজিজুর রহমান ছেলে আকবর আলী (৪৯) এবং সীমাবাড়ী ইউনিয়নের নাকুয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার আবুদিয়া গ্রামের মৃত আহমদ আলীর ছেলে সেলিম উদ্দিন (৪৮)।
ভুয়া পরীক্ষার্থীরা হলেন কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার আরমিনা খাতুন, সাথী আক্তার, সীমা খাতুন, লায়লা আক্তার, নাসিমা পারভীন, নাকুয়া দাখিল মাদ্রাসার আবু রায়হান, আব্দুস সালাম, কাওছার আলী, সুজন মিয়া, তাসলিমা খাতুন ও মধ্যভাগ দাখিল মাদ্রাসার সোহাগ হোসেন ও শ্যামলী খাতুন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শেরপুর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জামশেদ আলম রানা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে গোপনে ভুয়া পরীক্ষার্থীদের সম্পর্কে জানতে পেরে তাদের যাচাই-বাছাই করা হয়। তাদের প্রবেশপত্রের সাথে ছবি ও নামের মিল না থাকায় ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে আটক করা হয়। এরা সকলে অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তাদের মাদ্রাসাগুলো ননএমপিও হওয়ায় সুপাররা অন্যের পরীক্ষার প্রক্সি দিতে এনেছিল। পরে ভুয়া পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার অপরাধে ওই দুই মাদ্রাসা সুপারকে একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জানান।
শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, দন্ডাদেশপ্রাপ্ত মাদ্রাসা সুপারদের জেল হাজতে প্রেরণ ও বয়স কম হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে ভুয়া পরীক্ষার্থীদের কাছে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।