বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগির সন্ধান পাওয়া না গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগ সংক্রমণ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিদেশ ফেরত বা স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের জন্য একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৩৬ শয্যার করোনা আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে।
১২ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন ওয়ার্ডে দুটি করে শয্যা রাখা হচ্ছে। এছাড়াও জেলার প্রায় ৩০০ বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৪-৫টি করে শয্যা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু ও জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগির সন্ধান পাওয়া গেছে। সরকার আক্রান্ত রোগির চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সার্বিক ব্যবস্থা করেছে। জেলা পর্যায়ে কেউ আক্রান্ত হয়েছে সন্দেহ হলে প্রথমে সেই রোগিকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নেয়া হবে। পরবর্তীতে ওইসব সন্দেহভাজন রোগিদের শরীর থেকে সংগ্রহ করা নমুনা ঢাকার রোগ তত্ত্ব বিভাগে পাঠানো হবে। আক্রান্ত নিশ্চিত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার ওই দুটি হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে স্থান সংকুলান না হলে জেলা পর্যায়ে সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে খোলা আইসোলেশন করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আরো জানান, বগুড়া সদরের রাজাপুরে জয়নাল আবেদীন কমার্স কলেজ ভবন কোয়েরেন্টাইন সেন্টার করা হয়েছে। সেখানে শতাধিক ব্যক্তি থাকতে পারবেন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ১৪ শয্যা, ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৪২ শয্যা, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ শয্যা ও শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০ শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জেলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী মতবিনিময় করেছেন। সেখানে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে বগুড়ার প্রায় ৩০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রতিটিতে ৪-৫ শয্যার করোনা আইসোলেশন ইউনিট খুলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রতিটিতে কমপক্ষে ২-৩ শয্যা খুলবে ।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, তারা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগির চিকিৎসায় ৪২ শয্যা প্রস্তুত করছেন। তিনি জানান, করোনা ভাইরাস ১৪ দিন পর্যন্ত শরীরে সুপ্ত থাকতে পাররে। আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ফেরত জনগণের প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নজরদারি করছে। তাই বিদেশে আক্রান্ত রোগির সংস্পর্শে থাকা কোন ব্যক্তি দেশে ফিরলে তাকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হবে।
এছাড়া আক্রান্ত রোগির সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিকে বাড়িতে থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, পঞ্চমতলায় নারী ও পুরুষের জন্য সাতটি করে ১৪ শয্যার করোনা ইউনিট চালু হয়েছে। মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের চিকিৎসক এ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করবেন।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, তার কার্যালয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এ কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে।
তিনি জানান, বিদেশ ফেরত জনগণ নিজ দায়িত্বে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করবেন। সেখানে তাদের সাথে আলাপের পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।
এছাড়া কেউ রিপোর্ট না করলে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিবেন।
জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশ ফেরৎ জনগণের প্রতি নজরদারি করা হচ্ছে।
বগুড়া সদরে পৌর মেয়র ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে জনগণকে সতর্কভাবে চলাফেরা ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছেন।