সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : নির্বাচন কমিশনার সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির সংকটে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে: জামায়াত আমির রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন : রিজভী লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়তে পারে সরকার: গোলাম পরওয়ার জুবায়েরপন্থীদের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারিতে ২ পর্বে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিমানমন্ত্রীর রেঞ্জ রোভারের বিরুদ্ধে দুই মামলা জ্বালানিখাত স্বনির্ভর করতে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসিকে ৯ দফা দাবি জামায়াতের

সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: রাজনৈতিক দল ও ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণকে সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রথম নিজ জেলা সফর উপলক্ষে নাগরিক কমিটি ও স্থানীয় সুধীসমাজ এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ সংঘাত চায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি করতে হবে। ‘গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা,’ তিনি বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা আর কোনো সংঘাত বা রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এখন আমরা সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
তিনি দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যেন সমান বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে এবং ভাইস চ্যান্সেলরও দায়িত্ব নিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব।’
তিনি বলেন, জেলায় একটি মেডিকেল কলেজও প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি পৃথক উপজেলা গঠন করা হয়েছে এবং সেসব উপজেলার ইউএনওরা যোগ দিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আরও শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরটি দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখতে হলে জেলায় শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে।
‘আমাদের এখানে প্রায় কোনো কলকারখানা বা শিল্প নেই। মানুষের কাজের সুযোগও পর্যাপ্ত নেই,’ তিনি বলেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, জেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের জন্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকেও বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের ঠাকুরগাঁওয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জনগণকে শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ আপনাকে দাঁড় করাতে পারবে না। আপনাকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’
নারীদের আরও বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, অনেক নারী ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন। তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বিদেশে নেওয়ার একটি উদ্যোগের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষকেও সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলায় আরও বিনিয়োগ করার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি।
তরুণ সমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়েই তার জন্ম এবং শৈশব ও স্কুলজীবন কেটেছে।
তিনি তার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তারা তার জীবন গড়ে দিয়েছেন এবং সততা ও নেতৃত্বের শিক্ষা দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও তার প্রতি আস্থার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং কোনো ধরনের ঝামেলা পছন্দ করে না। এই পরিবেশ বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তার কথায়, ‘আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ঐক্য ও ভালোবাসা থাকবে এবং সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।’

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com