বাংলা হেডলাইনস: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মুজিববর্ষ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে শেখ মুজিব ‘মুক্তির মহানায়ক’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ৮ টায় লেজার শো ও আতশবাজী প্রদর্শন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মদিন ও মুজিববর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে দক্ষিণ প্লাজায় এবং হাতিরঝিলে আতসবাজি করা হয়। রাজধানী বর্ণিল সাঁজে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।
ভূটানের মহামান্য রাজা জিগমে খেসার নমগেয়েল ওয়াংচুক, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি , ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী, জাতিসংঘের মহাসচিব এন্টিনিও গুতেরাস এবং ওআইসি’র মহাসচিব ড. ইউসুফ আল ওথাইমিন- শুভাকাক্সক্ষী ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মুজিববর্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিভিশনে ও বেতার জাতির উদ্দেশে যথাক্রমে ভাষণ দেন।
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ মেয়ে শেখ রেহানাও বক্তব্য দেন। মুক্তির মহানায়ক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা আবৃতি করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে জাতি গঠনমূলক কাজে অবদান রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর আদর্শ আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তাঁর নীতি ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়–ক, গড়ে উঠুক সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতৃত্ব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে বছরব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করবো। একই কারণে বিদেশি অতিথিবৃন্দের সফর স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন আজ ১৭ই মার্চ। ১৯২০ সালের আজকের দিনে এই বাংলায় জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ। তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের মর্যাদা। তাইতো তিনি আমাদের জাতির পিতা। দুঃখী মানুষকে ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন আজীবন।বারবার কারারুদ্ধ হয়েছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করতো। অধিকারহারা দুঃখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গ-সন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন – তাই তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’।