বাংলা হেডলাইনস: করোনা পরিস্থিতে ছুটির মেয়াদ আরও কিছু দিন বাড়ানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
‘আমরা ছুটি দিয়েছিলাম, হয়তো আরও কয়েক দিন বাড়াতে হতে পারে। কারণ অনেকে গ্রামে চলে গেছে। সেখানে কোন রকম এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা না দেয়। সেই সময় টা হিসেব করে আমরা ১০ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম এটা ১৪ দিন হতে পারে। এই ছুটিটা সীমিত আকারে আমাদের বাড়াতে হবে,’ প্রধানমন্ত্রী বলেন।
আজ সকাল ১০ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে সারাদেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের সাথে কথা বলার সময় প্রারম্ভিক বক্তব্যে এই ইঙ্গিত দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন ছুটি বাড়ানোর সাথে সাথে আমদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে দ্রব্যমূল্য যেন নিয়ন্ত্রনের মধ্যে থাকে, সাধারণ মানুষের আওতার মধ্যে থাকে। কেননা মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে দিয়ে মুনাফা নেওয়া এটা অমানবিক।
তিনি বলেন দেশের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা নেব। আমাদের কিছু দিন কষ্ট করতে হবে সবাইকে। যাতে করে এই রোগে আমাদের দেশে মানুষ না মৃত্যুবরণ করে, না ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সীমিত আকারে অফিস আদালত যা কিছু চলার সেটা আমি কিছু কিছু চালু করে দেব। সেটা আমি বসবো কোনটা কি করা যায় দেখবো।কেননা মানুষের আয় উপার্জনের কিছু পথ যাতে খোলা থাকে সে ব্যবস্থাটা আমি নেব।
শেখ হাসিনা বলেন সামনে বাংলা নববর্ষ। এ নববর্ষ আমার সবসময়ই উৎসাহ সাথে উদযাপন করে থাকি। এবারে যেহেতু আমরা সব অনুষ্ঠানই বাদ দিয়েছি যেখানে লোক সমাগম হয় সে অনুষ্ঠান না করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন ডিজিটাল বাংলাদেশে এর সুযোগ নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন গুজবে কান দেবেন না, কেউ বিচলিত হবেন না। দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছে । যারা মিথ্যা কথা প্রচার করবে তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনা বলেন ছুটির কারণে আমাদের সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে কর্মহীন হয়ে পড়েছে । তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের কর্তব্য। ইতিমধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছি।
তিনি বলেন ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত যথাযথ তালিকা তৈরি করতে হবে দিনমজুর, দিন আনে দিন খায়, রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, স্কুটার চালক, দরিদ্র, শ্রমিক শ্রেণী, কৃষক, চায়ের দোকান এই শ্রেণীর, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যেমন হিজরা, চা শ্রমিক তাদের কছে তালিকা অনুযায়ী সরকারের খাদ্য পৌঁছিয়ে দিতে হবে যেন তাদের পরিবার নিয়ে তারা অভুক্ত না থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন এক জন যেন বার বার না পায়, কেউ যেন বাদ না যায় সেদিকে বিশেস খেয়াল রাখতে হবে। অনিয়ম দুর্নীতি যেন না হয়। কোন রকম অনিয়ম দুর্নীতি হলে এতটুকু ছাড় দেওয়া হবে না। মানুষের দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেও সম্পদশালী অর্থশালী হয়ে যাবে আমরা কখনো তা বরদাশত করবো না।এই ধরণের কোন অভিযোগ পেলে সে যেই হউক আমি কিন্তু ছাড়বো না।