বাংলা হেডলাইনস কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : পর পর ৫দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কুড়িগ্রামে কৃষির উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো।
ক্ষতি কমাতে পুরুষরা অন্য জেলায় বেড়িয়ে পরেছে কাজের উদ্দেশ্যে । অপরদিকে নারীরা লেগে পরেছে বিকল্প চাষাবাদে। সংসারের চাহিদা মেটাতে গৃহিনীরা এখন হয়েছেন কৃষাণি।
বুধবার সরজমিন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সুভারকুটি গ্রামে ঘুরে দেখা গেল নারী কৃষাণিদের কর্মযজ্ঞ। ৫ দফা বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান ক্ষেতে কেউ লাগিয়েছে শশা, কেউ সিম, কেউ কুল বড়ই, পেঁপেসহ নানান সবজি ও ফল।
সেপ্টেম্বরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ২৫ শতক জমিতে শশা লাগিয়ে ছিলেন কৃষাণি মেঘনা বেগম। তিন মাসে শশা বিক্রিযোগ্য হয়ে গেছে।
আজ ২ হাজার ৮শ’ টাকার শশা বিক্রি করলেন তিনি। এই সবজিচাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার শশা বিক্রি করতে পারবেন। তাহলে ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন তিনি।
প্রতিবেশী আমিনা বেগম জানালেন, বন্যায় স্বামীর বাড়িভিটা ভেঙে যাওয়ায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিভিন্নভাবে ঋণ করে বাবার ৬০ শতক জমিতে আপেল কুল, পেঁপে, মরিচ ও বেগুন লাগিয়েছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

স্বামীর ৩০ শতক জমিও বন্ধক রাখতে হয়েছে তাদেরকে। এবার ধানচাষ করে অনেক টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে তাকে। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এবার বিকল্প চাষ করে নিজের মাথা গোঁজার জন্য জমি কেনার স্বপ্ন দেখছে সে।
এই সংকটময় সময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ। নারী কৃষাণিদের সহযোগিতায় তারা ১৩ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণসহ ২ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি পুনর্বাসনের অর্থ সহযোগিতা দিয়েছে। এর সাথে অন্যান্য ঋণ করে ভাগ্য বদলাতে চাইছেন তারা।
হলোখানা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার গোলজার হোসেন জানান, দিনকাল বদলে গেছে। বাড়ির বউ-ঝিরা এখন শুধু ঘরের কাজ নয; স্বামীর সাথে কৃষিকাজেও হাত লাগাচ্ছে। আবাদ কিস্তি কিভাবে করতে হয় তা জেনেছে তারা।
ফলে এখন পুরুষবা জমি তৈরী করে অন্য জেলায় চলে যান কাজের আশায়। আর বউ-ঝিরা কোমড় বেঁধে লেগে পরেন আবাদ-কিস্তিতে।
এই গ্রামের ইতি বেগম জানান, এই এলাকায় কখনো বন্যা হতো না। গত ২০১৭ সাল থেকে বন্যা হচ্ছে। এবার ৫দফা বন্যায় তিনবার বীজতলা ও ধানক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।
আরডিআরএস থেকে পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ১২হাজার টাকা পেয়েছেন। তার সাথে নিজের কিছু অর্থ দিয়ে ৩০ শতক জমিতে সিম লাগিয়েছেন। সিম বিক্রি করে লোকসান পুরণ করতে চাইছেন এই কৃষাণি।
বাস্তবায়নকারি সংস্থা আরডিআরএস’র প্রকল্প সমন্বয়কারী তপন কুমার সাহা জানান, ‘আর্থিক অন্তর্ভূক্তি ও উন্নতিকরণের মাধ্যমে নারী ও যুবাদের ক্ষমতায়ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী, যাত্রাপুর ও উলিপুর উপজেলার বজরা এবং বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ১৩ হাজার নারী ও যুবাদের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষমতায়নে কাজ করা হচ্ছে।