বাংলা হেডলাইনস: করোনার কারণে মন্দাভাব কাটিয়ে খুলনায় কাঁকড়া রপ্তানি চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।
সেন্টমার্টিন সি ফুডস এর কমিশন ম্যানেজার প্রবীর চক্রবর্তী জানান, কাঁকড়ার আবার সুদিন ফিরে এসেছে। ইউরোপের বাজার বন্ধ হলেও জাপানসহ অন্যান্য দেশে গত ৬ মাস ধরে কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছে। সেই সাথে দক্ষিণাঞ্চলের কাঁকড়ার মোকামগুলো চাঙ্গা হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অফিস ও স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে, চার-পাঁচ বছর হলো খুলনার বাটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও কয়রা, বাগেরহাটের মোল্লাহাট, রামপাল, মোংলা ও শরণখোলা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও তেবহাটা উপজেলায় কাঁকড়ার চাষ শুরু হয়েছে।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের ইনজচার্জ আবু সাঈদ জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপসহ অন্যান্য উপজেলার ২৮ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে প্রায় সাত হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদিত হয়েছে।
মে মাস থেকে সংকট কেটে গেছে। চার দেশের বাজার ফিরে পেয়েছে খুলনার কাঁকড়া। প্রতিমাসে গড়ে দেড় লাখ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রপ্তানী হচ্ছে। যে সব দেশে কাঁকড়া রপ্তানী হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তরাজ্য।
মার্চ মাস থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপ বাংলাদেশি হিমায়িত খাদ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়। সে সব দেশে কমপক্ষে ৮০টি অর্ডার বাতিল হয়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় খুলনাঞ্চলের ৫টি হিমায়িত প্রতিষ্ঠান।
এরপর গত ২০ ও ২১ মে আম্পানের আঘাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, বাগেরহাটের মোংলায় কাঁকড়ার খামার ভেসে যায়। ফলে চাষীরা চরম দূর্দিনে পড়ে।
করোনার পূর্বে খুলনাঞ্চলের উৎপাদিত কাঁকড়া ১৯টি দেশে রপ্তানি হত।
গত বছরের মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রপ্তানী হয়। এতে কিছুটা হলেও হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বস্তি ফিরে আসে।