রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ জন হেফাজতে: পুলিশ ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে জাতিসংঘে থ্রি-আর কৌশল তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করছে বিরোধীরা: রিজভী রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে ‘বাধা দেব’: শফিকুর প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএর প্রথম দিন ১০ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন: মাহ্দী আমিন জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি শুরু জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের বিরোধে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ।। পুলিশসহ ২৫ জন আহত

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪২৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের কর্তৃত্ব দখল নিয়ে  দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে।

একপক্ষে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ও অপরপক্ষে সাবেক আহবায়ক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ শহরের চারমাথা এলাকায় আমিনুল গ্রুপের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। আমিনুলের অফিস ভাংচুরের পর অগ্নিসংযোগ এবং ৩-৪টি বাস ভাংচুর, পরিবহণ মালিকদের বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়েছে।

আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহন বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় এ হামলা চালায়। সশস্ত্র ক্যাডাররা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর, তার অফিসে অগ্নিসংযোগ, বাস, মোটরসাইকেল ভাংচুর ও আগুন দেয়।

তিনি মোহনকে গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত বগুড়ায় পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। পরবর্তীতে পুরো উত্তরাঞ্চলে এ কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেছেন, মোহন গ্রুপ প্রথমে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০-২২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে আহত কনস্টেবল রমজান আলীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মোহন জানান, তিনি পরিবহণ মালিক হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু এ হামলার সাথে তিনি জড়িত নন; তারা নিজেরা ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে আমাদের দায়ি করছেন।

জানা গেছে, লাভজনক প্রতিষ্ঠান বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার দলীয় কিছু নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একপক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন ও অপরপক্ষে যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম।

এ বিরোধের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশাসককে দায়িত্ব দেন। তবে হাইকোর্ট ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ রয়েছে এমনটা দাবি করে আমিনুল ইসলাম কর্তৃত্ব দখলে রাখেন।

তিনি নির্বাচনের বিরোধিতা করে মোটর মালিক গ্রুপের অফিস ও মালামাল নিজ হেফাজতে চারমাথা এলাকায় রেখেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীলা জানান, মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক আহবায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের নেতৃত্বে শতাধিক মোটর সাইকেলে ক্ষমতাসীন দলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের বিপুল সংখ্যাক ক্যাডার শহরের চারমাথা এলাকায় আমিনুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে থাকা মোটর মালিক গ্রুপের অফিস দখলের প্রস্তুতি নেন।

খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা আমিনুলের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকেন। তারা মোহন গ্রুপকে প্রতিহত করার জন্য শ্রমিকদের প্রস্তুতি নিতে বলে।

খবর পেয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবিরে নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ চারমাথা এলাকায় অবস্থান নেন।

এ সময় আমিনুল গ্রুপের লোকজন লাঠি মিছিল শুরু করেন। মোহন গ্রুপ বিপুল সংখ্যাক ক্যাডার নিয়ে সান্তাহার সড়কে অবস্থান নেন। মোহন গ্রুপ লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। আমিনুল গ্রুপের লোকজনকে পুলিশ ধাওয়া করে তাড়িয়ে দিলে মোহন গ্রুপের লোকজন চারমাথা টার্মিনাল এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর শুরু করেন।

তারা চারমাথা এলাকায় আমিনুলের পৌর কাউন্সিলর কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এছাড়া সেখানে থাকা অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও ৫টিতে আগুন দেন।

এছাড়া চারমাথার আশপাশে থাকা আমিনুরের মালিকানাধীন শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহণের ৪-৫টি বাস ভাংচুর করে।

ঘন্টাব্যাপী এ তান্ডবের সময় ছুরিকাঘাতে পুলিশের বিশেষ শাখার কনস্টেবল রমজান আলী ও আমিনুল গ্রুপের অন্তত ২৪ জন আহত হন। এ সময় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ও আশপাশের অন্ত:জেলা রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও শর্টগান দিয়ে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে মোহন গ্রুপের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ অন্তত নয়জনকে আটক করে।

আমিনুল গ্রুপ চারমাথা এলাকায় আসার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক, পৌর কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম এ হামলার প্রতিবাদে বগুড়া জেলায় পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেন। তিনি এ হামলার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনকে দায়ি করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। মোহনকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

পরবর্তীতে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সাথে বৈঠক করে পুরো উত্তরাঞ্চলে পরিবহণ ধর্মঘট ডাকা হবে। এ ছাড়া হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।

মঞ্জুরুল আলম মোহন বলেছেন, তিনি মালিক হিসেবে চারমাথায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কোন হামলা করেননি। পুলিশের উপস্থিতিতে আমিনুল গ্রুপের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় তার তিনটি বাস ও তেলের পাম্পে হামলা করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, মোহন গ্রুপ প্রথমে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারপিট করেছে। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত তাদের এক কনস্টেবলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগান দিয়ে ২০-২২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ ফয়সাল মাহমুদ পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। বিকাল পর্যন্ত নয়জনকে আটক করা হয়েছে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, শর্টগানের গুলিবিদ্ধ দু’জনসহ আহত সাতজন ভর্তি হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশংকামুক্ত।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com