বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে ৪০ টাকায় এক লিটার দুধ ও ৭০ টাকায় এক ডজন ডিম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভালো মানের দুধ তুলনামূলক কম দামে পাওয়ায় উৎসাহ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে কিনছেন ক্রেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন ও পবিত্র রমজান উপলক্ষে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর এলডিডিপি প্রকল্প ও শাহজাদপুর ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ এ কার্যক্রম শুরু করেছে।
পৌর এলাকা ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ এ গাড়িতে শুধু ভালো দুধই নয়, এক ডজন ডিমও ৭০ টাকায় এখন পাওয়া যাচ্ছে। লকডাউন ও পবিত্র রমজান মাসে এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারগুলোতে উৎপাদিত দুধ ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর ফলে খামারি ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ১৯৭৩ সালে সমবায়ভিত্তিক একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ মিল্কভিটা কারখানা গড়ে ওঠে। মূলতঃ ওই মিল্কভিটাকে কেন্দ্র করেই অঞ্চলটিতে সে সময় থেকেই হাজার হাজার গরুর খামার গড়ে ওঠে। বর্তমানে এসব খামারগুলো থেকে মিল্কভিটা প্রতিদিন ২ লাখ ২৫ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে।
মিল্কভিটা তরল, পাউডার, কনডেন্সড মিল্ক ও খাঁটি গাওয়া ঘি তৈরি করে দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে আসছে।
বর্তমানে শাহজাদপুর উপজেলায় সমবায়ভিত্তিক গো-খামারগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এখান থেকে প্রতিদিন মিল্কভিটা ৯০ হাজার লিটার, প্রাণ ৪০ হাজার লিটার, আড়ং ১০ হাজার লিটার ও ইগলু ১ হাজার লিটারসহ বিভিন্ন মিষ্টির দোকান বাকি দুধ কিনে থাকেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে খামারিদের কথা ভেবে মিল্কভিটা, প্রাণ, আড়ং, অ্যাংকার, ঈগলু কোম্পানিকে বলা হয়েছে, লকডাউনকালীন সময়ে কোনোভাবেই দুধ কম কেনা যাবে না। অপরদিকে খামারিদের উৎপাদিত অবশিষ্ট দুধ বাজারে সঠিকভাবে বিক্রির জন্য ভ্রাম্যমাণ গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে সব খামারি দুধ বিক্রি করতে পারবে না তারা এসব ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে দুধ দেবে।’
এসব গাড়ি প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা মনিটরিং করবে। এভাবে তারা ১০ দিন খামারিদের ভ্রাম্যমাণ সেবা দিবেন।
ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের প্রণোদনার জন্য সরকারের কাছে আবেদনও করা হবে বলে জানান তিনি।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের ঘোষণা করা চলমান লকডাউনে উর্দ্ধতন নির্দেশে শাহজাদপুরে উৎপাদিত দুধ এখন ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছে।
প্রতিদিন দুটি ভ্রাম্যমাণ ভ্যান গাড়িতে ১ হাজার লিটার দুধ পৌর ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করার পাশাপাশি ৭০ টাকা ডজন দরে ৪ হাজারের বেশি মুরগির ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। দুধ ও ডিমের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় দিন দিন চাহিদাও বাড়ছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়ির সঙ্গে একজন খামারি ও প্রাণিসম্পদ অফিসের একজন কর্মচারী থাকেন।
মিল্কভিটার পরিচালক ও শাহজাদপুর ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: সামাদ ফকির বলেন, লকডাউন শুরু হওয়ায় খামারিরা অনেকটা দুর্ভোগে পড়ে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে ৬০ টাকার দুধ ৪০ টাকা ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় এ দুধ বিক্রির টাকা দিয়েও গো খাদ্য কিনতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। তবে করোনাকালীন এ দুর্যোগে মিল্কভিটাসহ অন্যান্য কোম্পানিগুলো উৎপাদিত দুধ সংগ্রহ করায় খামারিরা স্বস্তিতে রয়েছেন।