বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি: দ্বিতীয় স্ত্রীর মন জয় করতে, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত নিজের ঔরসজাত নিষ্পাপ সন্তানকে হত্যা করেছে গাজীপুরের এক পাষন্ড পিতা। নির্মম
এ হত্যাকান্ডের ৩ মাস পর জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই হত্যা রহস্য উদঘাটন করে এক সহযোগীসহ সন্তানের ঘাতক পিতা জেলার জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী আকন্দ পাড়ার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে বাবুল হোসেন আকন্দ (৪২)কে গ্রেফতার করেছে।
তার সহযোগী হিসাবে গ্রেফতার হয়েছে একই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে এমদাদুল (৩৫)। এরা সম্পর্কে মামা শ্বশুর ও ভাগ্নী জামাতা।গ্রেফতারের পর পাষন্ড পিতা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে নিজের সন্তান হত্যার লোম হর্ষক বর্ণনায় সন্তান হত্যার কারণও প্রকাশ পেয়েছে।
পিতা জানিয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রীকে বেশী ভালোবাসার কারণে ও ক্রমাগত চাপের মুখে তাকে খুশী করতেই নিজের সন্তানকে হত্যা করেছে।
পিতার হাতে হত্যার শিকার হতভাগ্য সন্তান বিপ্লব আকন্দ (১৪) পারিবারিক অশান্তির কারণে বাড়ি থেকে দুরে নারায়ণগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করতো।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, চলতি বছরের ৮ মার্চ রাতে ভিকটিম বিল্পব আকন্দ মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তার মা ছেলেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করেও পায়নি।
পরদিন ৯ মার্চ ভোরে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী বকচরপাড়া গ্রামের চালা জমির বাঁশ ঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় বিপ্লবের লাশ পাওয়া যায়। লাশের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল।
পরে বিপ্লবের মা খাদিজা আক্তার জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানা পুলিশ ১ মাস তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার নির্দেশে মামলাটি তদন্তভার পিবিআই গাজীপুর জেলার উপর অর্পণ করা হয়।
পরে পিবিআই এর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধানে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় মামলাটি পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান তদন্ত করেন।
তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করে হত্যার সাথে জড়িত বাবুল হোসেন আকন্দকে গেল ৯ জুন রাতে ও এমদাদুলকে ১০ জুন ভোরে জেলার পিরুজালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।