শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
‘প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই’ এসআরবি বিল পাস, বিলুপ্ত র‍্যাব দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই:উপদেষ্টা জাহেদ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির সাইফুর রহমানের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন রিজভী ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : নির্বাচন কমিশনার সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতার রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির সংকটে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে: জামায়াত আমির

ধানের গোছা থেকে পুনরায় ধান উৎপাদনে উচ্ছ্বসিত কৃষক

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
  • ৩১০ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বোরো ধান কাটার পর পর জমিতে ফেলে রাখা কাটা মুড়ির গোছা পরিচর্চা করে পুনরায় ধান পেয়ে খুশি কুড়িগ্রামের কৃষক।

পরীক্ষামূলকভাবে এই মুড়ি বা নাড়া থেকে বিঘায় প্রায় ৬ মন ধান পেয়েছে কৃষক। স্বল্প খরচে ফেলে রাখা মাঠে শুধু ধান নয়, খড়ও পেয়ে গবাদি পশুর খাদ্য মেটাতে পারছে তারা। সারা জেলায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে দুই শতাধিক কৃষক ৭৫ একর জমিতে ফেলে রাখা ধানের রেটুন বা মুড়ির গোছা থেকে আবার ধান পেয়ে আনন্দিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বোরো ধান কেটে ফেলার পর প্রায় দুই মাস জমি ফাঁকা পরে থাকে। এসময় কাটা ধানের মুড়ি/নাড়া খেয়ে ফেলে গবাদিপশু। এই মুড়ির গোছা যত্ন করলে যে আবার ধান পাওয়া যায় সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে কুড়িগ্রামের কৃষক।

একদিকে যেখানে আমন ধানের প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষক সেখানে জেলাসহ রাজারহাট উপজেলায় পরিত্যক্ত কাটা বোরো ক্ষেতের মুড়ি/নাড়া বা ধানের রেটুন পরিচর্চা করে দ্বিতীয়দফা আবার ধান উৎপাদন করে চমক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পুনরায় ফসল পেয়ে খুশি কৃষক।

সোমবার (২১জুন) জেলার রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের মুসফৎ নাকেন্দা গ্রামে কৃষক অশ্বিন কুমার ও কৃষক সুব্রত কুমারের জমিতে রেটুন বা মুড়ি ধান থেকে পুনরায় প্রাপ্ত ধান ক্রপ কাটিং করা হয়। এতে বিঘায় ৬মন এবং একরে গড়ে ১৭মন ধান পাওয়া যায়।

কৃষক অশ্বিন কুমার জানান, আমার প্রায় ১০ একর জমিতে মুড়ি থেকে আবার ধান উৎপাদন করেছি। এতে দেখা যাচ্ছে ব্রিধান-২৮ এর মুড়ি থেকে সবচেয়ে বেশি ধান পাওয়া গেছে। এছাড়াও এখানকার কৃষক ব্রিধান-৭৪, ব্রিধান-৮৮ ও ব্রিধান ৮৯ এর মুড়ি থেকে পূণরায় ধান উৎপাদনে সফলতা পেয়েছে।

ধান কাটা দেখতে আসা পার্শ্ববর্তী রাজারহাট সদর ইউনিয়নের গ্রামের দেউলার বিল গ্রামের কৃষক ফুলবাবু, সামাদ ও রফিকুল জানান, একখন্দ জমিতে এই মুড়ি ফসল চাষ ভাল হয়েছে। কারণ নীচু জমিতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায়।

এ ব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা কৃষি অফিসার সম্পা আকতার জানান, জেলায় ৭৫ একর জমিতে রেটুন থেকে পুনরায় ধান উৎপাদন করা হয়েছে।

এরমধ্যে রাজারহাট উপজেলায় সর্বাধিক ২৫ একর জমিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।

তিনি আরো জানান, বোরো ধান কেটে ফেলার সময় ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি গোছা রেখে ধান কাটতে হবে। পরবর্তিতে ফেলে রাখা মুড়ি বা রেটুনে ৭ থেকে ১০দিনের মধ্যে বিঘা প্রতি ৭ কেজি ইউরিয়া, ৫ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি প্রয়োগ করতে হয়। জমিতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে হয়। জমিতে গরু ছাগলের বিচরণ বন্ধ ও আগাছা পরিস্কার রাখলে ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে পুনরায় ওই মুড়ি থেকে ধান পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় ধান উৎপাদন করতে পেরে খুশি এখানকার কৃষক।

বিষয়টি নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, বোরো ধান কাটার পর ৬০ থেকে ৭০ দিন জমি পরে থাকে। বিশেষ করে ২৮ ধানের মুড়ি থেকে পুনরায় কুশি হতে দেখা যায়। সেই চিন্তা থেকে এবার জমিতে ফেলে রাখা ধানের রেটুন বা মুড়ি পরিচর্চা করে পুনরায় ধান উৎপাদনে কৃষক সফলতা দেখিয়েছে। আগামিতে আরো কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com