বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় কালোবাজারে বিক্রির সময় ট্রাক বোঝাই ভর্তুকির ১৭ মেট্রিক টন টিএসপি ও এমওপি সারসহ পাঁচ ডিলারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানীর সদস্যরা শুক্রবার গভীর রাতে কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর-জামাদারপুকুর সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান চালিয়েছেন।
শনিবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো নন্দীগ্রাম উপজেলার সারের ডিলার কালোবাজারীর মূল হোতা নন্দীগ্রামের ভাটগ্রামের আয়েত আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৩৫) এবং আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ডিলার সুদিন গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে নওশাদ আলী (৪৬), আদমদীঘি বাজারের মৃত ফজলুল হকের ছেলে এমদাদুল হক (৪৩), শালগ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে ফজলুল হক (৫৫) এবং আদমদীঘি বাজারের মৃত নাসিউল হকের ছেলে এহসানুল করিম (৪৭)।
র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সারের চাহিদা বেশি থাকায় অসাধু ডিলার বেশি মুনাফার লোভে সরকারের ভর্তুকি দেওয়া সার কালোবাজারে বিক্রি করছে।
আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার বিএডিসির গুদাম থেকে নন্দীগ্রামে ৩৫০ বস্তা সার যাচ্ছে। গোপনে এমন খবর পেয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর-জামাদারপুকুর সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি ট্রাক (বগুড়া-ট-১১-০৯২৩) আটক করা হয়। ট্রাকে ৩৫০ বস্তা টিএসপি ও এমওপি সার পাওয়া যায়।
এ সময় ট্রাকে থাকা নন্দীগ্রাম উপজেলার সার ডিলার কালোবাজারীর মূলহোতা রুহুল আমিনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য চারজন আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সারের ডিলার।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ডিলাররা জানান, ১৭ মেট্রিক টন সার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের নামে বরাদ্দ হয়েছিল। তারা পরস্পর যোগসাজসে সিন্ডিকেট করে সান্তাহারের বিএডিসির গুদাম থেকে বরাদ্দকৃত সারগুলো উত্তোলন করেন।
এরপর কৃষকের কাছে ন্যায্য মূল্যে সার বিক্রি না করে অধিক মুনাফার আশায় নন্দীগ্রামের ডিলার রুহুল আমিনের কাছে বিক্রি করে দেন। যার ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
র্যাব কমান্ডার আরো জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে কৃষকদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। তাদের সারসহ কাহালু থানায় সোপর্দ এবং র্যাবের পক্ষে ডিএডি রাজু আহম্মেদ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।