বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে (১৫) রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঘরে এক মাস আটকে রেখে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ মামলার আসামি মাসুদ রানা (৩৭) অবশেষে ধরা পড়েছে।
ধুনট থানা পুলিশ এক বছর পর মঙ্গলবার তাকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেফতার করে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
দায়িত্বে অবহেলা ও অপরাধীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই আহসানুল হককে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়েছিল।
এজাহার সূত্র, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাসুদ রানা ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের দেউড়িয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। গত বছরের ১৬ জুলাই সে প্রতিবেশি কৃষকের মেয়ে গোপাল নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে বাড়ির কাছে রাস্তা থেকে অপহরণ করে। তাকে অটো রিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
তাকে ঢাকার একটি ঘরে এক মাসের বেশি সময় আটকে রাখা হয়। সেখানে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাকে এ কাজে গোপালনগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফজলুল হক বাবুসহ কয়েকজন সহযোগিতা করে।
ছাত্রীর মা ১২ আগস্ট ধুনট থানায় মাসুদ রানাকে প্রধান আসামি করে ইউপি সদস্য ফজলুল হক বাবুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা ২৪ আগস্ট ছাত্রীকে সিরাজগঞ্জের চাঁন্দাইকোণা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে যায়।
পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা করায়। রিপোর্টে তাকে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই আহসানুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনে আসামিদের গ্রেফতার না করে তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ও বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে তাকে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা। এরপর তিনি দু’দিনের মধ্যে দুই আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেন।
সর্বশেষ মঙ্গলবার ঢাকার সভার থেকে প্রধান আসামি মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ওসি এ খবরের সদস্য নিশ্চিত করেছেন।