বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবিরাজ তরুন কুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদ ও আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে পরাজিত প্রার্থী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ হাইকোর্টে রিট করেছেন।
বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের যৌথ বেঞ্চ গত ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটকারী আমিনুল ফরিদ বৃহস্পতিবার বিকালে জানান, আদেশের কপি বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, কবিরাজ তরুন কুমার চক্রবর্তী গত ২৮ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দ্বিতীয়বারের মত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। হলফনামায় তার তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমিনুল ফরিদ গত ৮ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন।
রিট পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণ চক্রবর্তী হলফনামায় তথ্য গোপন করে নির্বাচনী বিধি লংঘন করেছেন। তার বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন রকমের ব্যবসা থাকলেও হলফনামায় কেমন মাত্র সিএস সপ, তন্ময় ইলেকট্রিক ও তন্ময় হার্ডওয়্যার স্টোরের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু তার লিলিয়ান চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, কাটনারপাড়ায় চারতলা বিল্ডিং, কাটনারপাড়া মৌজায় ১৭৭৭ নম্বর দাগে যৌথ মালিকানায় ২২ শতক জমি রয়েছে। সিটি ব্যাংক বগুড়া শাখায় এফডিআরের তথ্য গোপন করা হয়েছে।
কুমার চক্রবর্তীর নামে লাইসেন্স করা দুটি আগ্নেয়াস্ত্র হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। যা নির্বাচনী আচরণ বিধির ১২(৩)(গ)(ঈ) লংঘনের শামিল। আরো অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকায় বিধিবহির্ভূত পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা করা হয়। যেসব নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপসারণ করা হয়নি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বগুড়ার ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিষয়ে তোলা অভিযোগ প্রধান নির্বাচন কমিশনকে ৯০ দিনের মধ্যে নিস্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আমিনুল ফরিদ জানান, তিনি হাইকোর্টের আদেশের কপি ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবিরাজ তরুণ কুমার চক্রবর্তী বলেন, রিটের ব্যাপারে কিছু জানেন না। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের কোন নির্দেশনা পাননি। তিনি বলেন, হলফনামায় জায়গা না থাকায় তার দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপারে উল্লেখ করতে পারেননি।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন জানান, হলফনামায় তথ্য গোপন করলে সে ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট করতে পারেন। তিনি বগুড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের রিট পিটিশন দাখিলের কথা শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা পাননি।