বাংলা হেডলাইনস খুলনা প্রতিনিধি : খুলনার রুপসা উপজেলার রামনগর এলাকার আলোচিত রাজ খা হত্যা মামলায় আসামি জামসেদকে যাবজ্জীবন ও আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচার মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি রহিমনগর এলাকার মান্নান ওরফে মুরাদ মল্লিকের ছেলে জামসেদ ওরফে জাবেদ মল্লিক। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবির সাথে সহযোগিতা করেন এপিপি ইলিয়াস খান ও এপিপি মোসা: শাম্মী আক্তার।
আদালতের সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১ জুন সকালে এসআই মো: আব্দুল খালেক নন্দনপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় জানতে পারে ওই এলাকার জনৈক ইমাম হোসেন জোয়াদ্দারের ইটের ভাটা আঠারো বাকী নদীর পশ্চিম পাড়ে বস্তাবন্দী লাশ পড়ে আছে। সেখানে গিয়ে দেখেন লাশটি মস্তকবিহীন। সুরাতহাল রিপোর্ট তৈরি করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন তিনি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি।
এর আগে নিহতের পিতা আমীর আলী খা ছেলে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে রূপসা থানায় একটি জিডি করেন। অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ মারফত তিনি জানতে পারেন। এ খবর জেনে তিনি থানায় যোগাযোগ করে তার ছেলের পোষাক দেখতে পেয়ে চিনতে পারেন।
যেভাবে গ্রেপ্তার হয় আসামিরা
হত্যা মামলাটি ক্লুলেস ছিল। নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। রাজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে প্রথমে কামরুল সরদারকে আটক করে। মোবাইল ফোন প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলে ভ্যানচালক আজিজের থেকে সাড়ে তিনশত টাকায় ক্রয় করেছেন বলে জানান। আজিজের মাধ্যমে জামসেদকে গ্রেপ্তার করা হলে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেয় সে।
যেভাবে হত্যা করা হয় রাজকে
তদন্ত রিপোর্টে প্রকাশ হত্যা মামলার আসামিরা ও ভিকটিম একই এলাকার বাসিন্দা। আসামি মিজানের তৃতীয় স্ত্রী কাকলী নামের এক মহিলার সাথে রাজ খা অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি মিজান জানতে পেরে ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা তার মাথায় আসে।
৩০ মে রাতে জামসেদের মাধ্যমে রাজকে ডেকে নেওয়া হয় ওই ইটের ভাটায়। কিছু বুঝে ওঠার আগে মিজান ও জামসেদসহ আরও অজ্ঞাত দুইজন ব্যক্তি রাজকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। চাপাতি দিয়ে মিজান জবাই করে রাজের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
হত্যাকান্ডের কিছুদিন আগে তুচ্ছ ঘটনায় রাজের সাথে জামসেদের বিরোধ হয়। আর এ বিরোধের কারণে মিজানের পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করে বলে ১৬৪ ধারায় আদালতকে জনিয়েছেন সে।