বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় করোনাকালে প্রশাসন অনুমতি না দিলেও ৩শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলার আয়োজন করা হয়।
বুধবার সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমেদ মেলায় গিয়ে এক ঘন্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিলেও ব্যবসায়ীরা তা অগ্রাহ্য করেন। তারা মহাসমারোহে মেলা চালিয়ে যান।
মেলার প্রধান আকর্ষণ বাঘাইড় মাছ না থাকায় ক্রেতারা হতাশ হয়েছেন।
এছাড়া মাছের দামও তুলনামূলক বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহিষাবান গ্রামে বউ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার সকালে বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ এলাকায় ইছামতি নদীর তীরে বিশাল জমিতে মেলা বসেছে। মেলায় বাঘাইড় ছাড়া হরেক প্রজাতির বড় বড় মাছ তোলা হয়।
মাছ ব্যবসায়ী বাবু মিয়া জানান, তার কাছে যমুনা নদীর ২২ কেজি ওজনের কাতলা মাছ আছে। প্রতি কেজি ১২শ’ টাকায় বিক্রি করবেন।
রমজান আলী জানান, তার কাছে সবচেয়ে বড় ২০ কেজির যমুনা নদীর কাতল রয়েছে। তিনি প্রতিকেজি ১৬শ’ টাকা দরে বিক্রি করবেন।

মাছ ব্যবসায়ী আবদুল আলিম জানান, তার কাছে ১২ কেজি ওজনের রুই রয়েছে। তিনি এ মাছ এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করবেন।
মিস্টিপট্টিতে আলিফ মিস্টি ভান্ডারে কথা হয় মালিক গাবতলীর পেরিরহাটের সোনাকানিয়া গ্রামের মোরশেদ আলমের সাথে। তার দোকানে ১২ কেজি ওজনের দু’টি মাছ আকৃতির মিস্টি সবার দৃষ্টি কেড়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি মাছ মিস্টির দাম ছয় হাজার টাকা। তার কাছে লাভ, ছানা, রসগোল্লাসহ বিভিন্ন নামে ১৪০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরের মিস্টি রয়েছে।
তিনি আরো জানান, মেলার মিস্টি পট্টিতে অন্তত ৫০টি দোকান রয়েছে। মেলায় অন্তত দুই কোটি টাকার মিস্টি কেনাবেনা হবে।
একই ধরনের মন্তব্য করেন, মহিষাবান গ্রামের মুক্তি সরকার। তিনি জানান, প্রতি বছর তারা মেলার ১৫ দিন আগ থেকে দোকান বসান। এবার করোনার কারণে মাত্র চারদিন আগে দোকান খুলেছেন। তা না হলে তাদের ব্যবসা আরো ভালো হতো।
গাবতলী উপজেলার মরিয়া গোলাবাড়ি গ্রামের শের আলী তার ছেলে শাহীন আলমকে সাথে নিয়ে মেলায় এসেছেন। তিনি জানান, বছরের অন্য উৎসবে স্বজনদের দাওয়াত না করলেও পোড়াদহ মেলার আগে জামাই, মেয়ে, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়া দেওয়া দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। তার বাড়িতে জামাই, মেয়ে, নাতিসহ ২০ জন মেহমান এসেছে। তাদের জন্য মাছ, মিস্টি, গোশত, কুল বরই ইত্যাদি কিনতে এসেছেন। আত্মীয়-স্বজন বেশি আসায় তাদের বাড়িতে ঘুমানোর স্থান সংকুলান হচ্ছেনা। ইতিমধ্যে ২০ হাজার টাকা বাজার করেছেন।
মেলার মাছপট্টিতে দেখা যায়, মাদারীপুর থেকে আগত মনির হোসেন ও অন্যরা কাঁধে ১৬ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের বোয়াল ও প্রায় ১০ কেজি ওজনের কাতল মাছ নিয়ে যাচ্ছেন। মাছগুলো দেখাতে ও মূল্য বলতে বলতে তিনি হাপিয়ে উঠেছেন।
মনির জানান, তিনিসহ বিভিন্ন জেলার ১০ জন বন্ধু গাবতলীর দূর্গাহাটা গ্রামের বন্ধু খায়রুল ইসলামের দাওয়াতে এসেছেন।
মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেলার অন্যতম আয়োজক আবদুল মজিদ মন্ডল জানান, প্রশাসন মেলার অনুমতি না দিলেও ঐতিহ্য ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্ন্যাসী পুজার স্বার্থে মেলার আয়োজন করা হয়। তবে মেলায় আগত সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক ব্যবহার করতে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে।
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলার অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন। অনুমতি ছাড়াই আয়োজকরা মেলা বসিয়েছেন। বন্ধ করতে এক ঘন্টার সময় দিয়েছিলেন প্রশাসন । কিন্তু ব্যাপক জনসমাগমের কারণে শেষ পর্যন্ত বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।