বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলার বিভিন্ন গ্রামে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জমিতে এবার ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও ব্যয় দুটোই হাতের নাগালে আসায় কৃষকরা খুশি হয়েছেন। ফলে কৃষকরা সৌরচালিত সেচ সুবিধা পেতে ঝুঁকে পড়েছেন।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত ইনফ্রাস্টট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) তদারকিতে সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
এসব পাম্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, ছালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেড। প্রতিটি পাম্প স্থাপন করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। একটি পাম্পের আওতায় ১২০ থেকে ১৫০ বিঘা জমি সেচ সুবিধার আওতায় রয়েছে।
প্রতি বিঘা জমিতে সেচ দিতে কৃষককে এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা খরচ দিতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বগুড়ার সোনাতলায় এ ধরণের ১০০টি সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কালাইহাটা গ্রামের তুহিন মিয়া, গোসাইবাড়ীর ফজলুল হক, ফুলবাড়ীর সাইদুর রহমান, পাকুল্লার আকবর আলী, চারালকান্দির জাইদুল ইসলাম প্রমুখ কৃষক জানান, শ্যালো ও বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের মালিকদের ধান কাটার পর ১৬ আটিতে চার আটি দিতে হয়। অর্থাৎ উৎপাদিত ধানের চার ভাগের এক ভাগ পাম্প মালিকদের দিতে হয়। পক্ষান্তরে সৌর সেচ সুবিধায় উৎপাদন খরচ খুবই কম। পাশাপাশি পানির কোন সংকট থাকেনা। আর ফলনও হয় বেশ ভালো।
তারা আরো জানান, এ পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। তাই বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল না হয়ে সোলার চালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধার আওতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়া তারা সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের কাছে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যশা ও সৌর চালিত বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি দাবি জানিয়েছেন।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ জানান, সৌর সেচে সুবিধা বেশি, পানির সংকট না থাকা, খরচ কম এবং প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৫ মণ ধান পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেশি। এবার প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না এলে এ উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগের সার্বক্ষনিক পরামর্শ এবং রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় উৎপাদন বেশি হবে।
এ বিষয়ে ছালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছালেক মিয়া জানান, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তাই তারা যাতে স্বল্প খরচে বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারেন সে জন্য এলাকায় সূর্যের আলো থেকে চালিত সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এতে কৃষকের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে বগুড়ার সোনাতলায় ১শ’টিসহ উত্তরাঞ্চলের ১০ জেলায় ১৭১টি সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।