বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় ৯৮টি স্কুলে অবহেলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে স্কুল ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
সোনাতলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবীন্দ্র নাথ সাহা জানান, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়া অবহেলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন হাজার শিশুর শিক্ষার সুযোগ মিলছে।
সংশিষ্ট সূত্র জানায়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের অধীনে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ৯৮টি স্কুলের মাধ্যমে দুই হাজার ৯৪০ জন অবহেলিত দরিদ্র ঝড়ে পড়া ও প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
উপজেলার ৯৮টি শিখন কেন্দ্রের প্রতিটিতে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের বয়স ৮-১৪ বছর। দুই শিফটে ক্লাস পরিচালিত হয়।
সকালের শিফট সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এবং বিকালের শিফট দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। প্রতিদিন ওই সকল শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলে ৩ ঘন্টা।
তবে অবস্থাভেদে ক্লাস পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্য পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি খাতা, পেন্সিল, রাবার, কাটার, স্কুল ব্যাগ, ড্রেস, ড্রইং খাতা ও রং পেন্সিল পেয়ে থাকে। এছাড়াও প্রতিমাসে প্রতিটি শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বাবদ ১২০ টাকা করে পায়। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক/শিক্ষিকা রয়েছে। শিক্ষকরা সম্মানী বাবদ প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পান।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় গ্রাম বিকাশ সংস্থা (জিবিএস) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার রবীন্দ্র নাথ সাহা জানান, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়া অবহেলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে দেশের ৬১টি জেলার ৩৪৫টি উপজেলায় এই প্রকল্প চলছে।
এ প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার রুবেল সরকার জানান, এই প্রকল্পের অধীনে গ্রামগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষের ঝড়ে পড়া শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, ২০১৯ সাল থেকে এ উপজেলায় ওই প্রকল্পের মাধ্যমে অবহেলিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও করোনাকালীন তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।