বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া সদরের মহিষবাথান সরকারপাড়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর আমেরিকার নাগরিক আবদুর রাজ্জাক সরকারকে (৬৫) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা মামলার আসামি মুনসুর প্রামানিক (২৫) ধরা পড়েছে।
ডিবি পুলিশের একটি দল সোমবার গভীর রাতে মহিষবাথান গ্রামে প্রধান আসামি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ওমর খৈয়াম সরকার রোপন ওরফে হাতকাটা রোপনের গরুর খামার থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ডিবি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাইহান ওলিউল্লাহ এ তথ্য দিয়েছেন।
আবদুল হাই সরকার সদর থানায় এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার বড় ভাই আবদুর রাজ্জাক সরকার গত ৩ মে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারতের জন্য গ্রামের বাড়ি মহিষবাথান সরকারপাড়ায় যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে মহিষবাথান নতুন হাটে একটি মুদি দোকানে বসে ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় সন্ত্রাসী ওমর খৈয়াম সরকার রোপন ওরফে হাতকাটা রোপনসহ পাঁচ আসামি ঈদের সেলামী দাবি করে। কাছে বেশি টাকা না থাকায় আবদুর রাজ্জাক পরে দিতে চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যায়। পৌণে ১টার দিকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত পাঁচ এজাহারনামীসহ আরো অজ্ঞাত ৭/৮ জন তাকে ঘেরাও করেন।
তখন প্রধান আসামি হাতকাটা রোপনের নির্দেশে অন্যরা এলোপাথারী কোপ দিতে থাকে।আত্মরক্ষায় আবদুর রাজ্জাক লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি করলে আসামিরা তাকে শরীরের ২৫/৩০ স্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর ভিকটিমের কাছে পিস্তল কেড়ে নিয়ে তাকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা প্রাইভেট কারে শহরের দিকে পালিয়ে যায়। রাত ১টা ৫৫ মিনিটে মুমুর্ষ আবদুর রাজ্জাককে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাতেই পুলিশ হাতকাটা রোপনসহ পাঁচ আসামিকে শহরের দত্তবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে দু’জন গুলিবিদ্ধ ছিল। পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাইলে দু’দিনের মঞ্জুর করেন।জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
ডিবি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, সোমবার রাত ২টা ৫৫ মিনিটে গোপনে খবর পেয়ে শহরতলির মহিষবাথান সরকারপাড়া গ্রামের প্রধান আসামি হাতকাটা রোপনের গরুর খামার থেকে এজাহার নামীয় আসামি ওই গ্রামের মিলন প্রামানিকের ছেলে মনসুর প্রামানিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।