বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি বাজার এলাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান। তবে বর্তমানে ড্রেন নির্মাণ কাজে গতি না থাকায় জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত কাজটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীরা জানান, কৈগাড়ী থেকে নন্দীগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ পর্যন্ত বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, ব্যাংক ও বীমা। ড্রেন নির্মাণ কাজে ধীর গতির কারণে নন্দীগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ার বিপুল সংখ্যাক জনগণ যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
কলেজপাড়ার বাসিন্দা শুভ মাষ্টার জানান, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ কাজে অগ্রগতি নেই। রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ কোন যানবাহন নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করা যায়না।ভারী মালপত্র বাজার থেকে আনতে খুব সমস্যায় পড়তে হয়।
হোটেল ব্যবসায়ী আরব আলী জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটি রাস্তায় চলে আসে এতে গাড়ি চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। ড্রেনের উপর বাঁশের চরাট দেওয়া আছে। এর উপর দিয়ে মালামাল আনা নেওয়া করা খুব কঠিন। ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।
পথচারী আবু হানিফ বলেন, ড্রেন নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে না পাড়লে বর্ষায় এ রাস্তায় মানুষ চলাচল করতে পারবে না। আর ড্রেন ঢালাইয়ের রড যেভাবে বের হয়ে আছে তাতে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীরা আরো জানান, ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম বাসট্যান্ড এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হলে এতে তারা বাধা দেন। তাদের অভিযোগ ছিল যেভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে; তাতে পানি নিষ্কাষন না হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। পরে তাদের দাবির মুখে পৌর মেয়রের প্রচেষ্টায় পাঁচ ফুট গভীর ও চার ফুট প্রশস্থ ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথমে খোঁড়াখুঁড়ির কাজের গতি থাকলেও পরবর্তীতে মন্থর হয়ে যায়। অল্প সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজটি করানো হচ্ছে। কিছুদিন ধরে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র আনিসুর রহমান জানান, মহাসড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। জনগণের দুর্ভোগের কথা ভেবে কাজটি দ্রুত শেষ করতে বার বার ঠিকাদারের লোকজনকে বলা হয়েছে। এরপরও অল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কারণে দ্রুত শেষ হচ্ছেনা।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রিজভী কন্সট্রাকশনের ম্যানেজার রাসেল আহম্মেদ বলেন, তাদের কাজ চলমান আছে। ড্রেনে পানি জমে থাকার কারণে একটু দেরি হচ্ছে। অল্প সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে যা প্রয়োজন সেভাবেই শ্রমিক দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, কাজের মেয়াদ এখনও আছে। যেহেতু জনসাধারণের দুর্ভোগ হচ্ছে; তাই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজটি শেষ করতে বলা হবে।