বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বাঙালি, করতোয়া, ফুলজোড় ও হুরাসাগর নদীতে নাব্যতা ফেরাতে এবং ভাঙনরোধে তীর সংরক্ষণে প্রায় দুই হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার কাজ চলছে।
কাজ শুরু হওয়ায় নদীগুলোতে নাব্যতা ফিরতে শুরু করেছে। এতে তীরে বসবাসকারী কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়াড় বইছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধা জেলায় বাঙালি, করতোয়া, ফুলজোড় ও হুরাসাগর নদী প্রবাহিত। দখল, দুষণসহ নানা কারণে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ফেলে। ফলে নদীতে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন, পানি না থাকায় তীরে বসবাসকারীদের কৃষিকাজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির সংকট দেখা দেয়। এছাড়া নদীর তীরে ভাঙনে অনেক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
সরকার এ তিন জেলার ২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চার নদী ড্রেজিং, পুন:খনন ও তীর সংরক্ষণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
সারা বছর বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে নাব্যতা ফেরাতে এ প্রকল্প হাতে নেয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর মধ্যে গাইবান্ধা সীমানায় ২৪ কিলোমিটার, বগুড়া সীমানায় ৯৯ কিলোমিটার ও সিরাজগঞ্জে ৯৪ কিলোমিটার রয়েছে।
এসব এলাকায় ড্রেজিং বা পুন: খনন চলছে। এছাড়া ভাঙন প্রবণ হিসেবে চিহ্নিত বগুড়ার ৩২ পয়েন্টে ১৯ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার এবং সিরাজগঞ্জের ২২ পয়েন্টে আরো ১৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার অংশে তীর সংরক্ষণের কাজও চলছে। অর্থাৎ সিসি ব্লক দিয়ে মুড়িয়ে ফেলা হবে।
সূত্রটি আরো জানায়, তিন জেলায় ২১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঙালি, করতোয়া, ফুলজোড়, হুরাসাগর নদী পুন:খনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মোট ব্যয় দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। শুধু খননে ব্যয় এক হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বগুড়ার ৯৯ কিলোমিটার অংশে নদী খননে ৪০০ কোটি ও ১৯ কিলোমিটার ডান তীর সংরক্ষণে আরো ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার উপর দিয়ে বাঙালি, করতোয়াসহ বিভিন্ন নদী প্রবাহিত। এক সময় এসব নদীতে সারাবছর পানি থাকায় অবাধে বড় বড় নৌকা চলাচল করতো। এ পানি দিয়ে কৃষকরা চাষাবাদ করতেন। জেলে সম্প্রদায় সারা বছর ধরে তা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কালক্রমে নদীতে পলি জমে ও দখল-দুষণে নাব্যতা হারায়।
ফলে অনেক এলাকায় নদী শুকে ফসলের জমিতে পরিণত হয়েছে। নদী তীরে বসবাসকারীরা চাষাবাদের জন্য পানি বঞ্চিত হতেন। ইতোমধ্যে নদীতে খনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এসব কাজে তদারকি করছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান বাঙালি, করতোয়া, ফুলজোড়, হুরাসাগর নদী পুন:খনন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৩ সালের ৩০ জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নদীগুলোর খনন কাজ শেষ হলে নাব্যতা ফিরে আসবে। নদীতে নৌযান চলাচলে কোন বিঘ্ন হবেনা।
এছাড়া সারা বছর পানি প্রবাহিত হওয়ায় কৃষক বিনা খরচে জমিতে সেচ সুবিধা পাবে। গ্রামবাসীরা আগের মত নদীর পানি গোসলসহ নানা কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।