বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে শহরের দুটি ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষকে সোয়া লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এর মধ্যে নিউ পল্লী ক্লিনিক সিলগালা করা হয়।
শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইমের নেতৃত্বে এ আদালত শহরের জলেশ্বরীতলার শহীদ খোকন সড়ক এলাকায় পরিচালনা করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, নিউ পল্লী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন , অনুমোদন ও লাইসেন্স নেই। এরপরও ১০ বেডের হাসপাতাল পরিচালনা করা হতো। পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটার অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, দুর্গন্ধযুক্ত ও পাশের ঘরে রান্না হচ্ছিল। প্যাথলজি ল্যাবের কোন অনুমোদন ছিলনা। আইন ও বিধি অনুযায়ী কোন কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিলেন না।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় দেখা যায়, একজন রোগি পেটে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে বেলা একটার দিকে সেখানে আসেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
আদালতে উপস্থিত বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর ওই রোগিকে চিকিৎসার জন্য মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রেফার করেন। এ সময় নিউ পল্লী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার ও শেয়ারহোল্ডার মো: সোহাগ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করেন। তখন আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুসারে তাকে এক লাখ টাকা জরিমান ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
অর্থদন্ড পরিশোধ করায় মো: সোহাগকে সন্ধ্যা ৭টায় তার মামাতো ভাই মনিরুল ইসলামের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া এনাম ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন থিয়েটার, রোগির বেড, কেবিন ও আশপাশের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়।
ডা.এনামুল হক জানান, প্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম নেই। কর্তৃপক্ষ অভিযোগ স্বীকার করায় আদালত তাকে একই আইনে ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।
এছাড়া তাকে এ সকল বিষয়ে সচেতন হয়ে বিধি ও আইনানুসারে কাংখিত সেবা প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত। আদালত পরিচালনার সময় ডা. নির্ঝর ছাড়াও বগুড়া পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহ আলী ও জেলা এবং আর্মড পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।