বাংলা হেডলাইনস খুলনা ব্যুরো : স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় শিল্প-বাণিজ্যের অমিত সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত সূচিত হবে।
দেশের বৃহত্তম এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই মোংলা বন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ছোটো-বড়ো নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠতে শুরু করেছে। বিনিয়োগে উৎসাহী দেশি-বিদেশি শিল্প উদ্যোক্তারাও আরো নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য খোঁজখবর নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পদ্মাসেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প বিপ্লব শুরু হবে।
স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষেরা। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনক্ষণ গণনাও শুরু হয়ে গেছে।
আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে অমিত সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের স্বপ্নে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ কোটি মানুষ এখন উজ্জীবিত ।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর।
এরপর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য। মোংলা বন্দরসহ এই অঞ্চলে গড়ে উঠতে থাকে ছোটো-বড়ো নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা।
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্র জানায়, পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর খুলনা বিভাগে বেসরকারি উদ্যোগে নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠতে শুরু করেছে।
নতুন গড়ে ওঠা উল্লেখযোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, জুট অ্যান্ড টেক্সটাইল, এলপি গ্যাস, অটো রাইস মিল, মাছের হ্যাচারি ও হিমায়িত মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ফুড অ্যান্ড এলাইড প্রোডাক্টস, ক্যাটল, প্রোল্ট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিড, প্রকৌশল শিল্প, রসায়ন শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্টিলাইজার, কোল্ড স্টোরেজ, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, উড অ্যান্ড পার্টিকেল বোর্ড প্রসেসিং, ডক ইয়ার্ড শিল্প, সার্ভিস (সেবা শিল্প), ডেইরি প্রোডাক্টকস অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম, অটোমেটিক ব্রিক ফিল্ড, প্লাস্টিক প্রোডাক্টকস, নির্মাণ শিল্প, পোল্ট্রি হ্যাচারি, পাওয়ার প্লান্ট এবং চামড়া ও ট্যানারি শিল্প ইত্যাদি।
পদ্মা সেতু চালুর হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প বিপ্লব শুরু হবে।
এদিকে, পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা বন্দরের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের ব্যবসায়িক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে মোংলা বন্দরের যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। এ কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোংলা বন্দরে আমদানি ও রপ্তানিকৃত মালামাল খুব তাড়াতাড়ি ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। যার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে আরো বেশি আগ্রহী হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ) কমান্ডার মো. ফকর উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নতুন করে জেগে উঠবে। মোংলা বন্দরের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সময়, অর্থ ও দূরত্বের সাশ্রয় হবে। যার ফলে গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে মোংলা বন্দরের। আমদানি-রপ্তানি বাড়লে বন্দরের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে বন্দর সংশ্লিষ্ট সকল মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানসহ আয় বৃদ্ধি পাবে।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে মোংলা বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে আমদানি-রফতানিকারকরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর মোংলা বন্দরের বিনিয়োগ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
খুলনার প্রবীণ শিক্ষক ও নাগরিক নেতা অধ্যাপক জাফর ইমাম বলেন, পদ্মাসেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। এই সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হবে। দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের আঞ্চলিক বৈষম্য কমে যাবে। নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপিত হলে এখানকার আর্থ সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।