বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় প্রধান দুটি নদীতে পানি কমতে থাকায় প্রবল স্রোতে ও ঘূর্ণাবর্তে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।
রাক্ষুসী যমুনা ও বাঙালির করাল গ্রাসে প্রতিদিন বিপুল পরিমান ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীরা চিহ্নিত হয়ে পড়েছেন।
সোমবার সরেজমিন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, সরলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, ভিকনেরপাড়া, আউচারপাড়া, আমতলী, খাটিয়ামারী, নিশ্চিন্তপুর, রংরারপাড়া, পারবগা, শ্যামপুর, হুয়াকুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সাথে সাথে নদীতে তীব্র স্রোতে এবং ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে তীরবর্তী এসব এলাকার ফসলি জমি, বাড়িঘর ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
খাবুলিয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের বন্যায় পানি কমার সাথে সাথে যমুনা নদীতে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে তিন শতাধিক মানুষ তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ছায়েদ আলী, হারুনুর রশিদ, নাজমা বেগম, অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির প্রমুখ জানান, প্রতিবছর বাঙালি নদীতে শত শত বিঘা আবাদী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে দিনদিন উপজেলায় আবাদী জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, সোমবার বিকালে যমুনা নদীতে পানি বিপদ সীমার ৬০ সেন্টিমিটার ও বাঙালি নদীতে ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ জানান, চলতি বছরের বন্যায় পাট, আউশ ধান, সবজি, রোপা আমন বীজতলাসহ ৫৫০ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে। তবে গত ২/৩ দিন ধরে ওই দুটি নদীতে পানি দ্রুত কমতে শুরু করায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে।