বাংলা হেডলাইনস খুলনা ব্যুরো: খুলনা মহানগরীর বয়রা এলাকার মোটর গ্যারেজ মালিক মো: বিপ্লবের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
রোববার (২৪ জুলাই) দুপুরে খালিশপুরস্থ গোয়ালখালি কবরস্থান থেকে আড়াই মাস পর কবর থেকে আদালতের নির্দেশে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এ সময় খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব, সিআইডি, খালিশপুর থানা পুলিশ ও ব্যবসায়ীর স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব বলেন, গোয়ালখালী কবরস্থান থেকে ব্যবসায়ী বিপ্লবের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। ফরেনসিস তদন্তের জন্য মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। ওখানের মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ ফরেন্সিস তদন্ত শেষ করে যথাযথ রিপোর্ট করবে। এ কাজ সম্পন্ন করে লাশ এনে যথাযথভাবে দাফন করা হবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ৭ মে রাত দেড়টার দিকে ব্যবসায়ী বিপ্লবের ছেলে মেহেদী হাসান তুহিনকে হঠাৎ মোবাইলে কল করেন গ্যারেজের এক কর্মচারী। তাকে জানানো হয়, তার বাবা রাতে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। ওই কথা শুনে সে পরদিন সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা হন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনায় আসেন। তিনি যখন খুলনায় বাবার বাড়িতে আসেন তখন গোয়ালখালী কবরস্থানে লাশ দাফনের সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। তার অনুপস্থিতিতে মৃত বাবার দাফন, জানাজা সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদনও করা হয়। যিনি ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি বাদীর পরিবারের কেউ নন।
তাছাড়া বাদী লোকমুখে শুনেছেন মারা যাওয়ার পর তার বাবার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল ও জিহবা বের হয়ে ছিল। বাদীর বাবা মারা যাওয়ার পর সকালে গ্যারেজ থেকে তার মোবাইল, মোটরসাইকেল ও গ্যারেজের কাগজপত্রও নিয়ে যান আসামিরা। এসব কারণে বাদীর সন্দেহ হয়েছে তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত ব্যবসায়ী বিপ্লবের ছেলে মেহেদী হাসান তুহিন গত ২২ মে বাবার হত্যার অভিযোগে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (নালিশী আমলী) আদালতে মামলা দায়ের করেন। ২৪ মে শুনানী শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওই আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুমী আহমেদ।
৩ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্যবসায়ী বিপ্লবের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন। ১০ জুন খুলনার অতিরিক্ত চীফ মেট্রাপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুমী আহমেদ মরদেহ উত্তোলন করার নির্দেশ দেন।