বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) মাদকাসক্ত করে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকায় বুধবার রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর আগে ছাত্রীর মা দুপচাঁচিয়া থানায় উল্লিখিত তিনজনের নাম উল্লেখ করে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেফতার তিন আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠিয়ে পাঁচদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার আসামিরা হলো বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়ার সরঞ্জাবাড়ি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে মো: পান্না (৩৫), একই গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলীর ছেলে ফেরদৌস (৫০) ও মৃত সিরাজ মন্ডলের ছেলে দুদু মন্ডল (৪০)।
পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানায়, দুপচাঁচিয়া উপজেলার একটি হাফেজিয়া ক্বওমী মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর বাবা প্রায় ১০ বছর আগে মারা যায়। মা তাকে নিয়ে পৃথক বাড়িতে বসবাস ও ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী পান্না, ফেরদৌস ও দুদু তাকে বিভিন্ন সময় বিড়ি, সিগারেট ও গাঁজা সেবনে আসক্ত করে।
এছাড়া তার উপর যৌন নির্যাতন করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। ছাত্রীর মা বিষয়টি টের পেয়ে আসামিদের নিষেধ করে। কিন্তু তারা উল্টো ছাত্রীর মাকে ভয়ভীতি দেখায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেয়েকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। গভীর রাতে বাড়ি ফিরলে জানতে পারে, সরঞ্জাবাড়ি তিনমাথা মোড়ের পশ্চিমে চাতালের ঘরে পান্না ও ফেরদৌস তাকে ধর্ষণ করেছে। শুধু তাই নয়; গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন সময় পান্না, ফেরদৌস ও দুদু ছাড়াও আরো অজ্ঞাত ৩/৪ জন তাকে ধর্ষণ করে আসছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, বুধবার রাতে ছাত্রীর মা মামলা করলে রাতেই নিজ নিজ বাড়ি থেকে এজাহার নামীয় পান্না, ফেরদৌস ও দুদুকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতের পাঠিয়ে পাঁচদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।