বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে বিয়ের ছয় মাসের মাথায় সৈয়দা সারাহ আহমেদ পিয়াসাকে (২৩) যৌতুকের জন্য মারপিট করে হত্যার পর লাশ ঝুঁলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ডহরপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে নিহতের মা আদমদীঘি থানায় জামাই ও বিয়াইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে।
পরে পুলিশ জামাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র ছাত্র নাসরুল হক ঐক্যকে (২৭) গ্রেফতার করেছে। ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, শ্বশুরকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানায়, নিহত সৈয়দা সারাহ আহমেদ পিয়াসা নওগাঁ সদরের মাস্টারপাড়ার সৈয়দ জসিম উদ্দিন আহমেদের মেয়ে। ১০ মার্চ বগুড়ার আদমদীঘির রহিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যক্ষ ডহরপুর গ্রামের আনোয়ারুল হক পল্টুর ছেলে নাসরুল হক ঐক্য তাকে (পিয়াসা) বিয়ে করেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর পিয়াসার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মাঝে মাঝে নির্যাতন করা হতো। পহেলা অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যার দিকে পিয়াসাকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশ নামানো অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে নিহতের মা ইয়াসমিন আহমেদ শনিবার সকালে আদমদীঘি থানায় জামাই নাসরুল হক ঐক্য ও বিয়াই সহকারি অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হকের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য হত্যা মামলা করেন। ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, মামলার পর স্বামী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র ছাত্র নাসরুল হক ঐক্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই করা হচ্ছে। ওসি আরো জানান, অপর আসামি তার বাবাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে গৃহবধুর চাচা শ্বশুর আনিসুল হক নান্টু দাবি করেন, বেড়াতে নিয়ে না যাওয়ায় অভিমানে পিয়াসা আত্মহত্যা করেন।