বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রামে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করার অপরাধে দুই এস্কেভেটর চালককে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তাদের সাতদিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন স্কুল ও বাজারের পশ্চিম পাশে অভিযান চালান। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া এস্কেভেটরের ব্যাটারি ও চাবি জব্দ করা হয়। নন্দীগ্রাম থানার এসআই শরিফুল ইসলাম এ তথ্য দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার নিজ শেখসুন্দর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৮) ও একই উপজেলার গড্ডিমাড়ি গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মনির হোসেন (২৫)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এক প্রবাসীর স্ত্রী নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন স্কুল ও বাজারের পশ্চিম পাশে জমিতে পুকুর খনন করছিলেন। তিনি পার্শ্ববর্তী নাটোরের সিংড়ার এস্কেভেটর ঠিকাদার শামীম ও পারশুন পারঘাটা গ্রামের হযরত আলীকে চুক্তিতে এ কাজ দেন। এস্কেভেটর চালক আরিফুল ও মনির জমি খনন করছিলেন। এ মাটি আশপাশের আবাদি জমি ও পুকুট ভরার পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ির উঠানে দেওয়া হচ্ছিল। গত চার/পাঁচদিন ধরে প্রতি ট্রাক্টর মাটি ৪-৫শ’ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এছাড়া ট্রাক্টর চলাচল করায় আশপাশের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দুই এস্কেভেটর চালককে গ্রেফতার করেন। এর আগে কয়েকটি ট্রাক্টর নিয়ে চালক ও ঠিকাদার পালিয়ে যান। পরে আদালত বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে তাদের দুইজনকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তাদের সাতদিন করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম জানান, ধানী জমিতে পুকুর খনন করলেই অভিযান চালিয়ে তাদের সাজা দেওয়া হবে।