বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় পূর্ব শ্ত্রুতার জের ধরে ডিস ব্যবসায়ী রঞ্জু সরদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা মামলায় চার সহোদরসহ ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো ছয় মাস করে সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সোমবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাবিবা মন্ডল এ রায় দেন। এদের মধ্যে সাতজন পলাতক রয়েছে; গ্রেফতারের পর থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে।
আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল করিম হলি এসব তথ্য দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন বগুড়া সদরের বড় কুমিরা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ওরফে আশরাফ (৪১ পলাতক), বানদীঘি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে জিন্নাহ প্রামানিক (৬৬), ঝোপগাড়ীর মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাহফুজার রহমান (৫১), বড় কুমিড়া করিমপাড়ার ইনতাজ শেখের ছেলে খয়বর আলী শেখ (৩৯), একই গ্রামের মৃত হেলাল শেখের চার ছেলে রিপন শেখ (৩৫), রাবু শেখ (৩১), রাজু শেখ (৪৬) ও রিজু শেখ (৩৩), বানদীঘি বড়ালতলার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে একরাম হোসেন ওরফে প্যারাসুট (৬৩), একই গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে আইনুল ইসলাম (৫১), ঝোপগাড়ীর আকবার আলীর ছেলে আজগর আলী (৫৩) এবং বানদীঘি গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৯)।
এদের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনকারী সাতজন হলেন খয়বর আলী শেখ, রিপন শেখ, রাবু শেখ, রাজু শেখ, রিজু শেখ, একরাম হোসেন ওরফে প্যারাসুট ও আইনুল ইসলাম।
আদালত সূত্র জানায়, নিহত ডিস ব্যবসায়ী বগুড়া সদর উপজেলার ছোট কুমিড়া গ্রামের আজাহার আলী সরদারের ছেলে। তিনি গত ২০১২ সালের ৭ জুলাই সকালে ভাতিজাকে স্কুল ছাত্রকে নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজে রেখে বাড়ি ফিরছিলেন। ছোটকুমিরা এলাকায় বিএড কলেজের সামনে রাস্তায় পৌঁছলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তার বাবা ওইদিন সদর থানায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ বিভিন্ন সময় আসামিদের গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে এরা সকলে জামিনে ছাড়া পান। তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নূরে আলম সিদ্দিকী ২০১৩ সালের ৫ জুন আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলা চলাকালে বাদল শেখ নামে এক আসামি মারা যায়।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাবিবা মন্ডল সোমবার দুপুরে ১২ আসামির মধ্যে পাঁচজনের উপস্থিতিতে সাজা ঘোষণা করেন। পলাতক সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের সাজা কার্যকর হবে।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল করিম হলি, পলাতক আসামি পক্ষে স্টেট ডিফেন্স অ্যাডভোকেট তাজ উদ্দিন ও অন্য আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট এএইচএম গোলাম রব্বানী খান রোমান মামলা পরিচালনা করেন।
পরে সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজনকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।