বাংলা হেডলাইনস: শাপলা নিয়ে অনড় অবস্থানের মধ্যে দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ মেনে নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন নির্বাচনে ৩০০ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘সমানতালে পাল্লা’ দিতে চায়।
নতুন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রোববার এমন প্রত্যাশার কথা কথা তুলে ধরে বড় দুই দলের জোটসঙ্গী না হয়ে নিজ দলের প্রতীকে সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেছেন।
রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “আগামীতে ধানের শীষ এবং শাপলা কলির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দিব।”
তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোট যেমন হবে না, জামায়াতের সঙ্গেও তার দল জোট করবে না। বরং এ দুটি দল যেখানে রয়েছে, সেখানে এনসিপি থাকবে লড়াইয়ে।
জোটে না যাওয়ার ব্যাখ্যা তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, “বিএনপি-জামায়াত যে বড় দলগুলো রয়েছে, সেখানে শাপলা কলি বড় ফাইটিং জোনে থাকবে।
“জামায়াতে ইসলামীর যে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ, এই ফ্যাসিবাদের তো আমরা সঙ্গী হতে পারব না। আবার বিএনপির যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, এটারও সঙ্গী হতে পারব না।”
চার মাসের দৌড়ঝাপ শেষে অবশেষে দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা কলিতেই থিতু হয়েছে দলটি। এ বিষয়ে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা শাপলা কলি নিচ্ছি। এনসিপি ও পুরো দেশের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি, যে যেখানে প্রার্থী হতে চান নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। আমাদের অফিসে আসুন, প্রার্থিতা জমা দিন। আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব।”
পছন্দের তালিকায় শাপলা থেকে শাপলা কলিতে আসতে এনসিপির সময় লেগেছে চার মাসেরও বেশি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এনসিপি ২২ জুন নিবন্ধন আবেদনের সময় শাপলা, কলম ও মোবাইল প্রতীকের পছন্দক্রম দিয়েছিল। এরপর ৩ অগাস্ট আরেক চিঠিতে দলটি পছন্দক্রম সংশোধন করে দেয় শাপলা, সাদা শাপলা ও লাল শাপলা।
এরপর দলটি শাপলা পেতে মরিয়া হলেও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিধিমালায় না থাকায় প্রতীকটি দেওয়া যাচ্ছে না।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতীক সংখ্যা বাড়িয়ে ১১৫টি করা হয়।
ইসি ৩০ সেপ্টেম্বর এনসিপিকে বলেছে, এক সপ্তাহের মধ্যে তালিকা থেকে প্রতীক পছন্দ করে জানাতে। তাতে সাড়া না নিয়ে শাপলা বরাদ্দ পেতে অনড় থাকে দলটি।
এরপর ১৯ অক্টোবরের মধ্যে পছন্দের প্রতীক না জানালে ইসি নিজ উদ্যোগে মার্কা দেবে বলে জানায়।
এমন পরিস্থিতিতে এনসিপি ফের জানায়, শাপলাই দিতে হবে এবং বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানায়। কমিশনও জানায়, তালিকায় না থাকায় শাপলা দেওয়ার সুযোগ নেই।
পরস্পর অনড় অবস্থানের মধ্যে প্রতীক তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন করে বৃহস্পতিবার হঠাৎ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করা হয়।
এতে ১৬টি প্রতীক বাদ দেওয়া হয় আগের তালিকা থেকে, আর শাপলা কলিসহ ২০টি নতুন প্রতীক যুক্ত হয়। এখন সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্রদের জন্য সংরক্ষিত হল ১১৯টি মার্কা।