বাংলা হেডলাইনস: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন পেছানোর কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
খালেদার অসুস্থতা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে শুক্রবার তিনি বলেন, “এসব প্রশ্ন আসে কী করে, আমি বুঝি না।
“নির্বাচন তো নির্বাচনের জায়গায়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নাই। সবচেয়ে বেশি নির্বাচন যিনি চাইবেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য, তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।”
ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে শুক্রবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “উনি যে অবস্থায় থাকুক, উনি চাইবেন বাংলাদেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করুক, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, বাংলাদেশের মানুষ আবার তাদের তাদের মালিকানা ফিরে পাক।
“যদি সবচেয়ে বেশি কেউ চেয়ে থাকে (নির্বাচন) সেটা হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার প্রশ্নটা আসছে কোথা থেকে?”
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত ২৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে।
দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া।
২০২০ সালে কারাগার থেকে মুক্তির পর দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি।
তবে চলতি বছরের শুরুতে লন্ডনে চিকিৎসা করিয়ে আসার পর তাকে ঘিরে বিএনপিতে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা বিএনপি নেত্রীর। তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো ভোটে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, তার ফেরার আশায় দিন গুনছিলেন নেতাকর্মীরা।
কিন্তু তার মায়ের অসুস্থতায় বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে লন্ডন থেকে তারেকের দেশে ফেরা এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল। এর মধ্যে হাসপাতালে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় থাকা তার মা খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তারেক রহমান এখনো ভোটার হননি। প্রবাসে থেকে ভোটার ও প্রার্থী হতে তাকে এখন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী প্রার্থী হতে হলে তারেক রহমানকে মনোনয়নত্র জমার আগেই ভোটার হতে হবে। ইসি চাইলে তিনি লন্ডনে থেকেও ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিদেশে থেকে বিধি মেনে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়নপত্রও জমা দিতে পারবেন তারেক। তার প্রস্তাবক ও সমর্থককে বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বিদেশে থেকে ভোট করতে তার আইনি কোনো বাধা নেই। খালেদার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটবে।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার এমন সময়ে সঙ্কট উত্তরণ করে ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নিয়ে তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার পর দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “তফসিলের বিষয়ে ইসি আমাদেরকে স্পষ্টভাবে জানায়নি। ইসি মিডিয়াতে বলেছে, হয়ত আগামী দুয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেবে। আমরা বলেছি, বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই তারা যাতে তফসিলের ঘোষণাটি দেয়।”
খালেদার চিকিৎসা এবং নির্বাচনের আয়োজন একইসঙ্গে চলার ধারণা দিয়ে আমীর খসরু বলেন, শুধু বিএনপির নেতাকর্মী না, সমস্ত দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার জন্য তাদের অনুভূতি প্রকাশ করছে।
“দেশ তো অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তো কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু জীবন তো চলতে হবে, তাই না? সবাই চলছে। এর মধ্যেতো আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর সবচেয়ে বেশি দেশকে, দেশের মানুষকে চলার পথে, গণতন্ত্রের পথে যদি কেউ দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে বিগত বছরগুলোতে, তিনি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।“