বাংলা হেডলাইনস: একটি দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে সরকারের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার প্রবণতা নির্বাচনি মাঠে ‘সমতার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
এছাড়া নির্বাচনের এ সময়ে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার (এসপি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা ডিসিদের আচরণে ‘নিরপেক্ষতার ঘাটতি’ থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি।
রবিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে এসে জায়ামাতের এই নেতা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ওই দলের শীর্ষ নেতাকে গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে বাড়তি নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তারা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে কারও নিরাপত্তা বা প্রটোকলে তাদের আপত্তি না থাকার কথাও বলেন তিনি। তারা চান তাদের দলের প্রধানকেও সমানভাবে দেখা হোক।
জামায়াত নেতা তাহের বলেন, “একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের প্রতিও একই ধরনের আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এটি পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।”
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জাতি একে পক্ষপাতমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং সবার জন্য সমান সুবিধার বিষয়টি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।”
জামায়াত নেতারা এদিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এসব নিয়ে যেসময় তাদের অভিযোগ ও আপত্তি তুলে ধরেছেন, সেটির কাছাকাছি সময়ে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাছির উদ্দিনের কাছে তাদের অভিযোগ জানায়।
বৈঠকে ইসির কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগের কথা তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি সেই দলের নাম নেননি।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের স্থানীয় প্রশাসনের ‘পক্ষপাত’ বিএনপির দিকে বলেই অভিযোগ আনেন।
তার ভাষ্য, “সারাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতের বিষয়টি এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা এসপি ও ডিসিদের আচরণে নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।”
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের আমির মো. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।