সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
টানা ১৬৬ দিন করোনায় মৃত্যু হয়নি।। সংক্রমণ ০.০০ শতাংশ অব্যাহত জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি নির্বাচন ঘিরে বেশকিছু জায়গায় অস্ত্রের মজুত হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ টানা ১৬৫ দিন করোনায় মৃত্যু হয়নি।। সংক্রমণ ০.০০ শতাংশ অব্যাহত ৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা ৫ বছরেও শেষ হয়নি পাইকগাছা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ! টানা ১৬৪ দিন করোনায় মৃত্যু হয়নি।। সংক্রমণ ০.০০ শতাংশ অব্যাহত প্রতিপক্ষের প্রতারণামূলক বক্তব্য স্বাভাবিক বিষয় নয় : মির্জা আব্বাস টানা ১৬৩ দিন করোনায় মৃত্যু হয়নি।। সংক্রমণ ০.০০ শতাংশ অব্যাহত বঙ্গভবনের কর্মকর্তা হ্যাকের সঙ্গে জড়িত কিনা, জানা যাবে ফরেনসিকের পর

খুলনা-৬ আসনে জামায়াত-বিএনপির হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২২ দেখা হয়েছে

শেখ নাদীর শাহ্, বাংলা হেডলাইনস, পাইকগাছা (খুলনা): আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। শীত উপেক্ষা করে প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের পক্ষে প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকরা দিনব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রথম দিকে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের পরিচিত আসনে ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও ক্রমশ বিএনপি অবস্থার উন্নতি হয়েছে। উভয় দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা দলীয় ইশতেহার নিয়ে ভোটারদের মনজয়ের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে দীর্ঘ দিন পর ভোট দিতে পারবেন-এমন প্রত্যাশায় ভোটাররাও দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে সমবেত হয়ে ভোটের আগে মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
মূলত জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি উভয়ই আসনটি পুনরুদ্ধারে রীতিমত কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। চায়ের টেবিল থেকে ভ্যানস্ট্যান্ড পর্যন্ত সবখানে আলোচনার মূল বিষয় আসন্ন নির্বাচন। ভোটাররাও এবার বেশ সচেতন, তারাও চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন নির্বাচনে দল ও প্রার্থীদের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে। তবে এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী আগেভাগেই তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামায় তারা খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন। নেতা-কর্মী ও সমর্থকসহ মাঠ কাপাচ্ছেন তাদের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে সামনে রেখে। অন্যদিকে বিএনপিও পিছিয়ে নেই বিলম্বে হলেও মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে দলের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীকে সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাধারণ ভোটাররা জানান, জামায়াতে মহিলা ভোটারের আধিক্য বেশি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দীর্ঘ দিন এক সাথে রাজনৈতিক ময়দানে অবস্থান করা বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে আওয়ামী লীগের ভোট। বিশেষ করে দলটির সনাতনী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গেলে তা যে কারোর ভাগ্যোন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
যদিও দীর্ঘ দিন ধরে আসনটি জামায়াতে ইসলামীর দখলে ছিল। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দীর্ঘ দিন জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় শরীক দল আসনটি জামায়াতকে ছাড় দেওয়ায় প্রার্থী দিতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে প্রার্থী দিলেও মূলত আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করায় সাধারণ ভোটাররা জামায়াতের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। বিশেষ করে আওয়ামী এন্ট্রি ভোটাররা জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসকেই ম্যান্ডেট দেয়। ঐ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জি,এ সবুর ১৬,৮৩৫ ভোট পান। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাড. শেখ মো: নূরুল হক ৬৬,০৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও জামায়াতের প্রার্থী শাহ্ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ৪৯,০২৩ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মঈন উদ্দিন সরকার ৬,৬০২ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। ঐ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস ৫৮,৩৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ নূরুল হক ৫৭,৬৬৯ ভোট পান। এরপর আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনে বিএনপির সাথে জামায়াতের জোট অটুট না থাকার সম্ভাবনায় বিএনপির পক্ষে অনেকেই প্রার্থী হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বিএনপির দাবি, সময়ের পরিক্রমায় আসনটিতে বিএনপির অবস্থান অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে শক্ত ও সংগঠিত।

তাছাড়া আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাইরে থাকলেও সনাতনীদের প্রায় ১ লক্ষ ২৮ হাজার ভোটার রয়েছে আসনটিতে। তৃণমূলের এসব ভোটাররা বুথমূখী হলে তাদের সমর্থন যে কারো বিজয়ের পথে টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপিই এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তবে এক্ষত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা ও সাদা ইমেজের জনবান্ধব হতে হবে।
নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ আসনটিতে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাক্রমে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স.ম বাবর আলী, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বিএনপির এ্যাড. শেখ রাজ্জাক আলী নির্বাচিত হন। এরপর সীমানা পরিবর্তনের পর ১৯৮৬ সালের ৭ মের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মোমিন উদ্দিন, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জহুরুল হক, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে আসনটি শূন্য থাকে। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ মো: নূরুল হক, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জামায়াতের শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাড. সোহরাব আলী সানা নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যথাক্রমে প্রয়াত এ্যাড. শেখ মো: নূরল হক, আক্তারুজ্জামান বাবু ও সর্বশেষ মো: রশীদুজ্জামান নির্বাচিত হন।
জামায়াত নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নিশ্চিত।

খুলনা- ৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনটি পাইকগাছা উপজেলার ১০ টি, কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পাইকগাছা পৌরসভা নিয়ে গঠিত। প্রায় ৪ লাখ ভোটার অধ্যুষিত এ আসনে আওয়ামী লীগ বিহীন আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জামায়াতসহ বিএনপির অন্তত ৮ জন প্রার্থী।
স্বাধীনতা পরবর্তী মোট ১২ টি নির্বাচনের সর্বশেষ ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাতে থাকা এ আসনটি পুনরুদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা করছে জামায়াত ইসলামী। অন্যদিকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নিজেদের অবস্থান ও সমর্থনের বিষয়টি জানান দিতে বিএনপিও মরিয়া।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় নির্বাচন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১২ টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬ বার, জামায়াত ইসলামী ২ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার, বিএনপি ১ বার, স্বতন্ত্র ১ বার নির্বাচিত হয়। তবে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদের গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে নতুন উদ্যমে বেড়ে ওঠা বিএনপি দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতের উপর ঠিক কি ধরনের প্রভাব ফেলবে তার বহুলাংশে নির্ভর করছে প্রার্থীতার পাশাপাশি সনাতনী, নতুন ও ভাসমান ভোটারের উপর। তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে জানাযায়, নিবাচনী তফসীল ঘোষণার বেশ আগে-ভাগে জামায়াত ইসলামী আসনটি থেকে তাদের একক প্রার্থীও নাম ঘোষণা করে  প্রচারণা চালাতে থাকে।
অন্যদিকে বিএনপির তখনও অন্তত অর্ধ ডজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় মাঠে ছিল। সর্বশেষ দলটি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীর নাম ঘোষণা করলে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারনা। তবে শেষ সময়ে জামায়াতের পাশাপাশি বিএনপি জোরালো প্রচারনায় রীতিমত মাঠ কাপাচ্ছে। জনপদে এখন পুরোদমে নির্বাচনী উত্তাপ বিরাজ করছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com