শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল আযহা উদযাপিত রাজধানীতে ঈদ জামাতের ব্যাপক প্রস্তুতি অনিয়ম, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে : মাহদী আমিন রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: অভিযোগ গঠনের শুনানি ১লা জুন আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি : অর্থমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ হবে: কিউবা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিকে ‘বাধ্য’ করা হবে: জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৩ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিকে ‘বাধ্য’ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

শনিবার বিকালে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “এক দলকে বিদায় করে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসাতে জুলাই বিপ্লব হয়নি। জুলাই বিপ্লব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্য রচিত বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য।

“এজন্যই সংবিধান সংস্কার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।”

বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, “আজকের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমনকি সংসদ সদস্যরা জুলাই বিপ্লবের কারণে নির্বাচিত হয়েছেন।”

আজহারুল ইসলাম বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বিএনপি সময় থাকতে সহজে মেনে নেয়নি। অনেক রক্তের বিনিময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে বিএনপি সরকারকে বাধ্য করা হয়েছে।

“আজও বিএনপি সময় থাকতে সহজে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে বাধ্য করা হবে।”

রাজপথের আন্দোলন সরকারের জন্য সুফল আনে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।

জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

রোববার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন।

মুলতবি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘প্রতিকার না পাওয়ার’ অভিযোগে বুধবার সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।

পরদিন বৃহস্পতিবার জামায়াত জোট বৈঠক করে শনিবার বিকালে ঢাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি দেয়।

এদিন আসরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মজজিদের উত্তর গেইটে সমাবেশের পর মিছিল বের করে জামায়াত জোট। মিছিল বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যেগুলো অধ্যাদেশ সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সেসব অধ্যাদেশ বিএনপি সরকারের খুব পছন্দ। কিন্তু যেই অধ্যাদেশ জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহিতে বাধ্য করে সেই অধ্যাদেশ বিএনপির খবুই অপছন্দ। এজন্য বিএনপি বাছাই করে সেসব অধ্যাদেশ বাতিল করার পথে হাঁটছে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর গণভোটের রায় তারা মেনে নিচ্ছে না।”

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না।”

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য বৈধ হলেও জনগণের ভোটে গণভোট জয়যুক্ত হওয়ার পর বিএনপি গণভোটকে বলে অবৈধ।

“বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটের বিপক্ষে কথা না বললেও সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বিএনপির হওয়ায় তারা জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।”

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, “গণভোট অবৈধ হলে সংসদ নির্বাচনও অবৈধ। বিএনপি সরকার জনগণের বিপক্ষে হাটছে।”

জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।

জামায়াত জোটের নেতারা ইতোমধ্যে বলেছেন, আগামী ৭ এপ্রিল আবার শীর্ষনেতারা বৈঠক করবেন। সে বৈঠকের পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com