বাংলা হেডলাইনস: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িকতা ও প্রপাগন্ডা’ ছড়ানোর প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের এ ফলাফলের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে।”
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং এদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, থ্রিষ্টান সকলের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।
“আমরা দেখিয়ে দেব, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এ বাংলাদেশ।”
চট্টগ্রামের এলডিপি, আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এদিন এনসিপিতে যোগদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম না নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। সংসদে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সন্তান, তিনি রাখঢাক ছাড়াই বলে ফেললেন, নির্বাচনের জন্য সংস্কার প্রশ্নে জনগণের কাছে তারা কমিটমেন্ট দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তাদের আসল রূপ বের হয়েছে।
“সংস্কারের প্রশ্নে তারা কখনো কমিটেড ছিলেন না। আমরা এ কথাটি অনেক আগে থেকে বলে এসেছি, বাংলাদেশে সংস্কার ও জুলাই গণসংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে এনসিপিকে করতে হবে।”
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “সংষ্কার ও বিচারের পক্ষে আমাদেরকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে সংসদ ও সংসদের বাইরে। সেটার জন্য তরুণ প্রজন্ম এবং যারা জুলাই গণ অভূত্থ্যানে অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, শতাধিক শিশু মারা গেছে, এ সংকটের জন্য ‘প্রকৃতভাবে’ যে দোষী, তার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান বিগত অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা নাহিদ।
তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে এ সরকার কোনো দায় নেবে না এটা হতে পারে না। আপনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন, তদন্ত করুন, যে দোষী তার বিচারের আওতায় আনুন।”
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকার ক্যাম্পেইন না চলা এবং টিকা না কেনায় এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
নাহিদ বলেন, “আমরা চাই না আর একটা শিশুও মারা যাক। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। আমরা চাই না নতুন করে আর কোনো শিশু মারা যাক বা অসুস্থ হোক।”
এনসিপির ‘দাওয়াত’ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বিএনপির অনেকেই এনসিপিতে যোগ দিতে চাচ্ছে। তাদের হয়ত অনেকেই লজ্জায় বলতে পারে না। আপনারা তাদের কাছে যাবেন। প্রত্যেকটা কমিটির যারা নেতাকর্মী আছে, তাদের কাছে এনসিপির দাওয়াত পৌঁছে দেবেন।
“এ পুনর্গঠনের মধ্যে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন থেকে আমাদের পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সে বাংলাদেশ আমরা অবশ্যই অর্জন করব।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “যারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছে, তারা বাংলাদেশপন্থা, সংস্কার, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে। কিন্তু বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী আমাদের স্পিরিটের সাথে আছে।”
এএসএম সুজাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে খান তালাত মাহমুদ রাফি, রাসেল আহমেদ, জোবাইরুল হাসান আরিফ, জোবায়ের মানিক, সাগুফতা মিশমা যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।