শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী প্রার্থী বাছাইয়ে সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন মির্জা ফখরুল বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক।। চূড়ান্ত হবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিরা ভোট দিতে পারবেন না: চিফ হুইপ প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ।। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার তাগিদ কর্নেল অলি আহমদকে জামায়াতজোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা ।। সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৮২ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে রায়ে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রবিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি সোহেল রানাকে সে সময় কাঁদতে দেখা যায়। আর নির্বাক স্বপ্নার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল।
রায়ের পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রায় ঘিরে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত এলাকায়।
আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, আসামিপক্ষসহ সবাই।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে শতভাগ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা—সেটা আমি পেয়েছি।
“ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি।”
তিনি বলেন, “বিচারক, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও বাংলাদেশের আপামর জনতা যারা আমার ও আমার পরিবারের বিপদের সময়ে মানসিকভাবে সহায়তা করেছেন, সবার নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অবশ্যই আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “রামিসার বাবা ন্যায়বিচার পেয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট।”
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে দোষ স্বীকার করেন। রায়ে সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে।
“ন্যায় বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।”
সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে আসামিপক্ষে নিয়োগ দিয়েছে। রাষ্ট্র যদি চায়, আপিল করব।”
এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হল।
রামিসার লাশ উদ্ধারের ২০ দিনের মাথায় আলোচিত এ মামলার রায় এসেছে। দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য-জেরাসহ সব বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায় আসে।
সে প্রসঙ্গ ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার রায় ঘোষণা করা, সেটি আমার মনে হয় সময় বিবেচনায় সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যকার ঘটনা।
“আমার মনে হয় যে, আপনাদের মনে থাকার কথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মাগুরার আছিয়া এবং শ্রাবণ হত্যা মামলার যে বিচার, তার থেকে কম সময়ের মধ্যে বিচারটি সম্পন্ন হয়েছে। এটা বিচারিক প্রক্রিয়াটা মাইলফলক।”
এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল বিভাগের শুনানি শেষে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব বলে আশাবাদী আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
রায়ের পর সচিবালয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রত্যাশা, আগামী তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব—যদি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এটাকে প্রায়োরিটি দিয়ে শুনানি করেন। আশা করি, সুপ্রিম কোর্ট করবে।
“কারণ আজকের এই যে ফাস্ট ট্র্যাক করা হয়েছে, সেটা সরকার একা করেনি; মাননীয় প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ জুন পর্যন্ত মাননীয় বিচারকদের যে ছুটি ছিল, সেই ছুটি বাতিল না করতেন— তবে ফাস্ট ট্র্যাক করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হত না।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ফাইলটা আসে, আমরা যদি তার পরের সপ্তাহ থেকে এটাকে পেপার বুকে দিয়ে দিতে পারি। পেপার বুক যদি ১৫ দিনের মধ্যে আমরা শেষ করতে পারি, তারপরে যদি বিশেষ বিবেচনায় এটা শুনানি করা হয় এবং শুনানি যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে করি তারপর আপিল বিভাগে যাবে।
“এটা তিন মাসের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। তবে প্রত্যেকটা মামলায় তো আমরা এরকম ফাস্ট ট্র্যাকে দিতে পারব না, এই কারণে আমরা একটা ওয়ে আউট বের করার চেষ্টা করছি যে— কতটা দ্রুত আমরা সেটা করতে পারি।”
পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশন এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আসামি সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন।
গত ১৯ মে দুপুরে সোহেলদের বাসা থেকে রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সেখান থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেন সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।
রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ঘটনার দিনই দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর স্বপ্নাকেও পাঠানো হয় কারাগারে।
ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনাটি সারাদেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। আশ্বাস দেন, বিচার দ্রুত শেষ করার।
ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। সেদিনই বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মামলার নথিপত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
পরদিন সকালে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। একদিনেই ১৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়।
৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। বিচারক সেদিন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ
উত্তরে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সোহেল রানা ক্ষমা চান। বলেন, “স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই।”
পরদিন ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে দুই পক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।
রায়ের পর্যবেক্ষণের বিচারক বলেন, “শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়। এটি আমাদের সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর ও কঠিন পরীক্ষা।
“একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।”
কোন প্রেক্ষাপটে রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে তুলে ধরে বিচারক বলেন, নারী এ শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে এক হাজার আটশতাধিক মামলা বিচারাধীন, যার প্রতিটি মামলাই শিশুদের প্রতি সংঘটিত সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন অথবা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
“প্রতিটি মামলার পেছনে রয়েছে একটি শিশুর অসহনীয় যন্ত্রণা, একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রতীক্ষারত অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা।
“সেই প্রেক্ষাপটে শিশু রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সন্তোষের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে। তদন্তকারী সংস্থা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।”
বিচারক বলেন, “একইভাবে, প্রসিকিউশন মামলার সকল গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের সম্মুখে উপস্থাপন করে বিচারকার্য দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন এবং বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট সকলের এই আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব প্রশংসার দাবিদার।
“আদালত এও প্রত্যাশা করে, শিশু রামিসার মামলার ন্যায় দ্রুত, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।”
ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, “বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং বিশেষত ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবার যেন অযথা দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ একই রকম নিষ্ঠা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এটাই এই আদালতের প্রত্যাশা।
“একটি ন্যায়সঙ্গত বিচার কেবল আদালতের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং তদন্তকারী সংস্থা, প্রসিকিউশন, ডিফেন্স, সাক্ষীরা এবং বিচার ব্যবস্থার সকল অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ন্যায়বিচারের লক্ষ্য অর্জিত হয়।”
বিচারক বলেন, “আদালতের দায়িত্ব আবেগ দ্বারা নয়, বরং আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিমালার আলোকে সত্য উদ্ঘাটন করা। অতএব, এই আদালত অত্যন্ত সতর্কতা, সংবেদনশীলতা ও বিচারিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রায় প্রদান করছে।” সূত্র: বিডিনিউজ

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com