শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাখতে চায় জামায়াত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ।। বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষা কেবল তার দায়িত্বকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য: তথ্য উপদেষ্টা গ্যাস সংকট ।। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি আমলে নেওয়ার মতো নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রপতি কে হবেন: মির্জা ফখরুল চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজ দূর না হওয়া পর্যন্ত লড়াই তীব্রতর হবে: জামায়াত আমির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন তারেককে ব্রিকস সম্মেলনে মোদির আমন্ত্রণ

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাখতে চায় জামায়াত

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস : স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা, নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে বিতর্কিত পদায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ তৈরিতে কমিশনের রাজনৈতিক চাপ ও নির্দেশনার সামনে নতিস্বীকারের অভিযোগ এনে সংস্থাটিকে কড়া বার্তা দিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের প্রতিনিধি দল মোট ৯টি প্রস্তাব সম্বলিত একটি চিঠি হস্তান্তর করে এবং ইসির স্বাধীন সত্তা ধরে রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। 

ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধান প্রদত্ত বিপুল ক্ষমতার মালিক হলেও তারা সেই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার সঠিকভাবে এক্সারসাইজ বা প্রয়োগ করতে পারছে না। 

ইসির সাম্প্রতিক বেশকিছু পদক্ষেপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কমিশনের অঙ্গভঙ্গি ও কাজের ধারায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তারা মারাত্মক রাজনৈতিক চাপে রয়েছে এবং চাপের মুখে পড়েই স্বাধীন সিদ্ধান্তের বদলে আজ্ঞাবহ ভূমিকা পালন করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সরোয়ার আলমের গেজেট ও শপথের দ্রুততার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আদালতের আদেশের কপি বা বিচারপতির সিগনেচার করা নির্দেশ হাতে আসার আগেই রাজনৈতিক প্রভাবে মাত্র দুই-চার ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে গেজেট জারি ও শপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা কমিশনের চরম অস্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক চাপের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রমাণ দেয়।

জামায়াত নেতার বক্তব্যে কমিশনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ও আজ্ঞাবহতার প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের প্রসঙ্গ। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাবেক সিনিয়র নেতা এবং বিগত নির্বাচনে সরাসরি আসন পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত কমিটির সদস্যকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদে থাকা এমন ব্যক্তিকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া আগামী যেকোনো নির্বাচনকে একপেশে ও পক্ষপাতমূলক করার সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত। 

জামায়াত নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের আলোচনায় ইসি কর্মকর্তারা রাজনৈতিক পরিচয় আগে না জানার অক্ষমতা প্রকাশ করলেও জামায়াত প্রতিনিধি দল সাফ জানিয়ে দেয় যে, একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশন ইচ্ছা করলেই এই বিতর্কিত রাজনৈতিক নিয়োগ গ্রহণে অসম্মতি জানাতে বা বাতিল করতে পারত।

ইসির নিরপেক্ষতা ও জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অপর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হলো এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত সুপারিশ। জামায়াত নেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে চরম বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা শিক্ষকরা যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য না হন তবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে তারা কেন প্রার্থী হতে পারবেন না। দীর্ঘদিনের সুসংগঠিত লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনের সংস্কৃতি ভেঙে কোনো স্টেকহোল্ডার বা রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ ছাড়াই কেন ইসি এমন শিক্ষকবিরোধী নীতি তৈরি করে সরকারের বিচার-বিবেচনার জন্য পাঠাল, তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিশন অবশ্য বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইসি বৈঠকে এটি পুনর্মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের সূচি ও তারিখ ঘোষণা নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত, সময়সূচি বা দিনক্ষণ নির্ধারণের একমাত্র আইনগত এখতিয়ার যে নির্বাচন কমিশনের, তা মনে করিয়ে দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, কমিশন নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন না করায় প্রতিদিন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা একেক রকম তারিখ বা মাস ঘোষণা করছেন। সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের এই বেআইনি হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ইসির নিজস্ব ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার তাগিদ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা পদ-পদবিধারীদের ব্যক্তি পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বন্ধ করা, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় সুবিধাজনক রাজনৈতিক পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রার্থিতার অযোগ্য ঘোষণা করা। নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের সরাসরি প্রভাব বিস্তার বন্ধে কঠোর বিধিনিষেধ জারির আনুষ্ঠানিক দাবি জানান জামায়াত প্রতিনিধিরা।

রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যান্য সাম্প্রতিক বিষয়ের অবতারণা করে জামায়াত সেক্রেটারি সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত এক সংসদ সদস্যের পদ থাকা না থাকার ইস্যুটিকে পুরোপুরি সাংবিধানিক জটিলতা বলে উল্লেখ করেন এবং এ সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেন। তিনি জানান, ব্যক্তির কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে, যা চূড়ান্ত।

একই সঙ্গে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের পারিবারিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বাড়িতে হামলা ও পরিবারকে হেনস্তা করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে গণমাধ্যমকে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com