বাংলা হেডলাইনস: নিজের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তোলা অভিযোগ নিয়ে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর তার পক্ষে কীভাবে পদোন্নতি দেওয়া আর টাকা নেওয়া সম্ভব?
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
গত ২ অক্টোবর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, তাদের হাতে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ‘বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির’ অভিযোগে এ অনুসন্ধান চলছে বলে জানান তিনি।
দুদকের একটি অভিযোগ ছিল, “বর্তমানে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য জনপ্রতি ১ লক্ষ টাকা তাদেরকে পছন্দমতো স্থানে পদায়ন করিয়ে দিতে জনপ্রতি ৩০,০০০/- টাকা হিসেবে মোট প্রায় ২ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মিশন প্রায় শেষ পর্যায়ে।”
আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের এই অভিযোগ আনা হয় চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল। অথচ ওই পদোন্নতি দেওয়া হয় বিএনপি সরকারের সময়ে গত ১১ মে। আর তিনি অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন গত ১০ ডিসেম্বর।
“যে সময়ের অভিযোগ করা হয়েছে, সে সময় আমি দায়িত্বেই ছিলাম না। বিএনপি সরকার তখন তিন মাস ধরে ক্ষমতায় ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই— এটা কীভাবে সম্ভব?”
সংবাদ সম্মেলনে দুদকের অভিযোগ মাল্টিমিডিয়ায় উপস্থাপন করেন আসিফ মাহমুদ। সেখানে তিনি ‘সাংবাদিকদের গ্রুপে দেওয়া দুদক মুখপাত্রের একটি দুঃখপ্রকাশের’ স্ক্রিনশট তুলে ধরেন। সেখানে লেখা, “কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত প্রাথমিক সত্যতা শব্দ বলে ফেলেছি। প্রাথমিক সত্যতা শব্দটি না ব্যবহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ভিডিওতে থাকলে সেটিও এডিট করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।”
আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদক মুখপাত্রের ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করা হয়নি। এতে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার ভাষ্য, দুদকের অনুসন্ধান ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অংশ।
বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে দুদকের আরেকটি অভিযোগের জবাবে আসিফ বলেন, “অভিযোগে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের কথা বলা হলেও প্রকৃত তথ্য হল ১১২ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল।
“২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ওই ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে চলতি দায়িত্বে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সেই চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়। অর্থাৎ, এখানে কেবল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বাস্তবায়ন হয়েছে “