বাংলা হেডলাইনস: কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সঙ্গে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মুহুরী সেতুর কাছে খেয়াঘাট এলাকায় এক হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) কাজের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ ও বন্ধ মিল-কলকারখানা পুনরায় চালুর মতো সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কাজ বাধাগ্রস্ত হলে এ দেশের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। ১৯৭১ সালে এসব রাজনৈতিক দল কী ভূমিকা পালন করেছিল, আমরা তা দেখেছি। তখন তারা কী করেছিল, কীভাবে বিভিন্ন অন্যায় করেছিল এবং কীভাবে নারীদের হয়রানি ও নির্যাতন করেছিল, আমরা তা দেখেছি।’
তারেক রহমান বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে জনগণকে বিভ্রান্ত করে এসব রাজনৈতিক শক্তি কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছে, কিন্তু এখন তারা সেই অর্জনকে এমনভাবে দেখছে, যেন তারা সবকিছু পেয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি, ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে মা-বোনদের নির্যাতন করেছিল, আবারও তাদের সেই নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। আমরা দেখছি, তাদের গুপ্তবাহিনীর কিছু সদস্য কীভাবে নারীদের নির্যাতন করছে। আর তারা শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে এবং তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মানুষ বলছে, শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, একজন মানুষের জীবন শেষ করে দিয়েছে।’
দেশে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের মানুষই রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু দুষ্ট মানুষ কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
তারেক রহমান বলেন, আজ আমাদের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে—আমরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করব। আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে, আমরা কাদের কথা বিশ্বাস করব এবং কাদের কথা বিশ্বাস করব না। আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে, জনগণ কাদের সমর্থন দেবে এবং কাদের সমর্থন দেবে না।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যাদের ‘গুপ্তদল’ হিসেবে উল্লেখ করেন, সেই দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের দলে সমস্যা থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা অন্যদের পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি, সেই গুপ্তদলের নেতারা আমাদের অনেক নসিহত করছেন—কী করব, কী করব না। আজ এখানে হাজার লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের বলতে চাই, দয়া করে আগে নিজের ঘরের দিকে তাকান। নিজের ঘরের মানুষ কীভাবে নারীদের নির্যাতন ও এসব কাজ করছে, আগে তা সামাল দিন, তারপর অন্যদের কিছু বলতে আসবেন।
যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজ যেকোনো মূল্যে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখার সময় এসেছে। নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি, একটি গুপ্তবাহিনী বিভিন্ন টিকিট বিক্রির কথা বলে দেশের মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ এই বিভ্রান্তকারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার সময় এসেছে। দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা কীভাবে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, আমরা তা দেখেছি। ১৯৮৬ সালে তারা কীভাবে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, আমরা তা দেখেছি। প্রতিটি সময়ে আমরা দেখেছি, এই গুপ্তবাহিনীর লোকজন, এই গুপ্তদল সবসময় দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।’