বাংলা হেডলাইনস: পুলিশি ‘হয়রানি’ ও ডাম্পিং বন্ধ এবং রাজধানীর সব সড়কে অবাধে চলাচলের সুযোগের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক হাজার চালক সড়কের দুই পাশ অবরোধ করলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ চলাকালে বক্তারা বলেন, রাস্তায় অটোরিকশা আটকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে। দরিদ্র চালকদের পক্ষে এত টাকা জরিমানা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনা কঠিন। এছাড়া অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোর সংযোগও কেটে দেওয়া হচ্ছে।
‘হয়রানি ও ডাম্পিং’ বন্ধ না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন চালকরা।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে মিছিল নিয়ে পল্টনের দিকে চলে যান বলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কয়েক হাজার অটোরিকশা চালক বিভিন্ন দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা সাড়ে বারোটার দিকে তারা মিছিল নিয়ে চলে যান।”
এদিকে চালকদের অবস্থান ও সমাবেশের কারণে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি রিকশা চলাচল একপ্রকার বন্ধ থাকে। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি রিকশার সংখ্যা কম দেখা যায়।
প্রেসক্লাবে সমাবেশে অংশ নেওয়া রিকশাচালক মিল্লাদা মিয়া বলেন, রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার স্থানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদসহ কয়েকটি দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।
আরেক চালক সুমন বলেন, ট্রাফিক পুলিশ চালকদের ‘হয়রানি’ করে এবং ব্যাটারি রিকশা ডাম্পিং করে। রিকশা আটক করলে পাঁচ হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়।
এদিকে রিকশা চালকদের অবরোধের কারণে প্রেসক্লাবের আশপাশের সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, রিকশাচালকরা শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করে ফিরে গেছেন। তাদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, সেটি যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন। তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।”