বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
শ্রমিকদের রুটি-রুজির স্বার্থ সংরক্ষণে সব পদক্ষেপ নেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবারও পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা ঢাকা-সাভার-গাজিপুরে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন।। ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ-কারখানা বন্ধ ঘোষণা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: জামায়াত আমির জাপানের সঙ্গে বৈঠকে তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল বিপুল ভোটে বিজয়ী তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে কঠোর আন্দলনের হুশিয়ারি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে: রিজভী

সোমবারও পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৪ শতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১০ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। সোমবারও গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে, কোথাও যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে দুই শিল্প এলাকার অন্তত ৪১৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে শিল্পপুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে আশুলিয়ার ২৬৪টি ও গাজীপুরের অন্তত ১৫০টি কারখানা রয়েছে।
এদিকে রাজধানীর মিরপুরে গতকালও সড়কে নামার চেষ্টা করেছেন শ্রমিকেরা। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে গতকাল প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সাভারের আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। কালিয়াকৈর ও আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে গত রোববার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপরও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন শ্রমিকেরা। ওই দিন সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের আড়াই শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, গতকাল বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভারের আশুলিয়া ও জিলানি এলাকায় ৬৭৯টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে বের হয়ে যান। এর মধ্যে মিরপুর এলাকায় ৬৫টি, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় ৩৮২টি, সাভারের আশুলিয়া ও জিলানি এলাকার ২২৩টি এবং নারায়ণগঞ্জের ৯টি কারখানা রয়েছে। এর আগে রবিবার ৫২৯টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে কারখানা থেকে বের হয়ে যান বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
গাজীপুরে রবিবার আন্দোলনের সময় পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈর থানায় মামলাগুলো করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে রবিবারের ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তবে সাভার-আশুলিয়ার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান জানান, সাভার ও আশুলিয়ার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইন অনুসারে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
গতকাল সকাল থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা, নাওজোড় ও ভোগড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, যানবাহন ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিজিবি, পুলিশ ও সংবাদকর্মীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গতকাল থেকে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একদল শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারে যানজটের সৃষ্টি হয়।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন।
অন্যদিকে বেলা ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর হয়। সেখানে সময় টেলিভিশনের একজন প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এর আগে আরও কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরে শিল্প পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। বেলা একটার পর শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বহিরাগতরা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন সবকিছুর দাম বেড়েছে। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ একসঙ্গে কাজ করেছে। দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের তৎপরতা ঠেকাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাসায় পরিবারের সদস্যদের বাইরে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি কিংবা অপরাধ চক্রের সদস্য অবস্থান করলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি প্রশাসনকে না জানানো হলে এবং এ কারণে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট বাড়িমালিকদের ওপর বর্তাবে।
সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানাগুলোতে প্রথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সকাল নয়টার পর থেকে অস্থিতিশীল হতে থাকে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে কর্মবিরতি পালন করেন আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত নিউএইজ গ্রুপের কারখানার শ্রমিকেরা। সাড়ে নয়টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে অন্য কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ওই এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে বিক্ষোভ করতে যান। সেখানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর থেমে থেমে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ইটের আঘাতে পুলিশের এক সদস্য আহত হন।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকা থেকে কাঠগড়া সড়কের পাশে বেঙ্গল প্লাস্টিক পাইপস লিমিটেডের কারখানার সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক বিক্ষোভ করেন। পরে তাঁরা কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। সেখানে পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি কারখানাতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা জিরাবো থেকে কাঠগড়া সড়কের পাশে বিভিন্ন কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।
জিরাবো এলাকার মিনি সাউদার্ন গার্মেন্টসের একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমরা কাজ করছিলাম। আন্দোলনকারীরা আসার পরে ছুটি দিয়া দিছে। কাঠগড়া পুকুরপাড় পর্যন্ত সব কারখানা ছুটি দিয়া দিছে। আমাদের পাশে ৬-৭টা কারখানাও ছুটি দিছে।’
সকাল ১০টার দিকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ঘোষবাগ এলাকায় বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিকেরা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে অবরোধ করেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সেখানে দুপুর একটার দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল ২৬৪টি কারখানায় সাধারণ ছুটি বা বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন ইট-পাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করা হয়েছে আটটি কারখানায়। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট পাটকেলের আঘাতে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে অনেক বহিরাগত যোগ দিয়েছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য আছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন পোশাক কারখানায় ভাঙচুর এবং পোশাক খাতের বাইরে অন্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা সন্দেহজনক। সাধারণ শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কারখানা ভাঙচুর করেন না।
শিল্প এলাকার পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে সোমবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে সাভারের উলাইল এলাকার একটি কারখানার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন। তাঁরা বলেন, কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা দেবে পুলিশ। যারা এ বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে তাদের ব্যাপারে তথ্য রয়েছে। উসকানিদাতাদের ফাঁদে পা না দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেট্রো গার্মেন্টস, লিবার্টিসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। এ সময় লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লিবার্টি গার্মেন্টসের শ্রমিক সোহেল মিয়া বলেন ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নিতে হবে।
বিকেল চারটার দিকে ঘটনাস্থলে যান নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। তাঁরা শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
শিল্প পুলিশ-৪ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ বলেন শ্রমিক আন্দোলনের কারণে এখানে কোনো কারখানা বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। তবে জালুকড়ি এলাকায় অবিস্থত রপ্তানিমুখী এসবি স্টাইল লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপে গ্লাস ভাঙচুর হয়েছে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-৬ নম্বরের শিয়ালবাড়ি ও পূরবী এলাকার কয়েকটি কারখানা থেকে শ্রমিকেরা মিরপুর-২ নম্বর হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাদের ধাওয়া দিয়ে কয়েকটি কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ। মিরপুর-২ নম্বরে স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকায়ও শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর মডেল থানার পাশে সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালান কিছু দুর্বৃত্তকারী। কারখানাটির নিরাপত্তা সুপারভাইজার আবদুর রাজ্জাক বলেন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীরা কারখানার অপেক্ষা কক্ষের কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা, কম্পিউটারের মনিটর ও একজন উপমহাব্যবস্থাপকের কক্ষ ভাঙচুর করেন। তখন কারখানাটিতে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। হামলার পর কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রবিবারের সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: গণমাধ্যম

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com