বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে কঠোর আন্দলনের হুশিয়ারি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে: রিজভী জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠায় জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারে যেতে পারে পুলিশ: আইজিপি ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার খবরে অস্থিরতার সুযোগ দেবে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না : জামায়াত আমির সৌদি আরবে কারাবন্দি ৭৫০০ বাংলাদেশি : শামা ওবায়েদ মোংলা বন্দর-সুন্দরবন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর সাজেকে গোলাগুলি।। ২,৯৩৩ পর্যটককে সরিয়ে নিল নিরাপত্তা বাহিনী

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে কঠোর আন্দলনের হুশিয়ারি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে কতটা সক্ষম, তার ‘যাচাই’ হবে বলে সতর্ক করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

এ ‘পরীক্ষায়’ কমিশন ব্যর্থ হলে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এ জোট।

বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি জানান, বৈঠকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।

আযাদ বলেন, উপনির্বাচন নিয়ে এর আগেও নির্বাচন কমিশনের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়েছিলেন তারা।

কিছু বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

এই জামায়াত নেতা বলেন, “আজকের বৈঠকে নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু কাল ভোটের মাঠে যদি বাস্তবতার সঙ্গে এ আশ্বাসের মিল না পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নেব এটি ছিল আইওয়াশ।”

বৃহস্পতিবারের উপ নির্বাচনে ‘নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা হবে’ মন্তব্য করে আযাদ বলেন, “আশা করছি নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। সারাদেশে আন্দোলন জোরদার হবে।”

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

দাবিগুলো হলো—ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করা।

ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনি প্রচারে বাধা, হামলা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে–এমন কিছু ঘটনার তথ্য তারা কমিশনকে দিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভোটারদের মধ্যে ‘ভীতি’ তৈরি হচ্ছে বলেও তাদের আশঙ্কা।

বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, “ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। তাদের ওপর হুমকি-ধমকি ও মারধরের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।”

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রথমে একটি রোডম্যাপ দিয়েছিল। পরে ‘একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে’ সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে।

কমিশন এ বিষয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা দিলেও তার অভিযোগ, ‘মন্ত্রীর হস্তক্ষেপের কারণেই’ রোডম্যাপে পরিবর্তন এসেছে।

আযাদ বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাবে, ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশন কতটা সক্ষম।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’ দূর করার পাশাপাশি নির্বাচন যেন ‘সরকারের প্রভাবমুক্ত’ থাকে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের এই নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে তারা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছেন। মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন কবে হবে, সে প্রশ্নও করা হয়েছিল। তবে কমিশন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানান হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন।

“কমিশন জানিয়েছে, ভোটার স্থানান্তরের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। কোনো এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হলে তা শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে।”

নির্বাচনের আগেই ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভোটের আগের দিনই পরদিনের নির্বাচনের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

“আগামীকাল কেমন ভোট হতে পারে, এটা আমরা প্রেডিক্ট করতে পারি। সে প্রেক্ষিতে আজকে এখানে এসেছি। আগামীকালের নির্বাচন দেখেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তাফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আলম এবং খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন এ সময়।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com