বাংলা হেডলাইনস : রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ চলাকালে বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনায় আটকে পড়া দুই হাজার ৯৩৩ পর্যটককে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন।
তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধ শুরু করে।
অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালান। এতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালির মধ্যে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, আটকে পড়া পর্যটকদের নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ নিরাপত্তা বহর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহরটি সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা পথ আটকে দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের যেতে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা ব্যারিকেড ভেঙে পর্যটকদের নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।
এ অভিযানের সময় উজোবাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। তবে গোলাগুলিতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অবরোধকারী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকের মাচলং, থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক, ভুয়োছড়িসহ সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় অবস্থান নিয়েছেন। তাদের কারণে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এলাকা থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো।
এর আগে সংগঠনগুলো ১১ অক্টোবর থেকে দফায় দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
নতুন করে অবরোধ শুরুর ফলে স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পরিবহনের সংকটে স্থানীয় কৃষকরাও তাদের জুমের ফসল বাজারে নিতে পারছেন না।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংকট দ্রুত সমাধানে প্রশাসনও কাজ করছে।