বাংলা হেডলাইনস :কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ইনানী এলাকায় একটি রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জন নিহত হন। এদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ইনানী বিচ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড হয়। রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আরও একটি পরিবারের খোঁজ করছেন স্বজনরা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগে, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ১০টি লাশ পাওয়া গেছে। তবে লাশগুলো ভয়ানক রকমভাবে পুড়ে অঙ্গার গেছে। চেনার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।
স্বজনরা রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে যে পরিবারের খোঁজ করছেন তারা হলেন- যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী আফসানা ও তাদের সাত বছরের মেয়ে রোবাইনা এবং তিন বছরের মেয়ে সুনাইনা।
নাহিদুর ঢাকায় শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি ঢাকাতেই বসবাস করতেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্য ও কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীরা।
নাহিদুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নাহিদ একজন নিখোঁজ রয়েছেন, এটি জানা গেছে। বাকিদের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
অগ্নিকাণ্ডের পর কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা নাহিদুর ও তার পরিবারের কারও নাম পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, “প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেগুলো ছিল খুবই ছিন্নভিন্ন। পরে শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একটি শিশু ও দুজন নারী ছিলেন।”
তিনি বলেন, “কারও চেহারা দেখে পরিচয় বোঝার উপায় নেই। আমরা মরদেহগুলো উখিয়া থানার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মরদেহ শনাক্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ছয়জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।